বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে সম্মতি

ভুটানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় ওই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামীতে ভুটান থেকে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার থিম্পু সফর উপলক্ষে গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ কথা জানান।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগের আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা ছাড়ছেন। আজই সন্ধ্যায় ঢাকা-থিম্পু শীর্ষ বৈঠক এবং এরপর ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী গতকাল সংবাদ ব্রিফিংয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প প্রসঙ্গে বলেন, ওই প্রকল্পের তিন অংশীদার বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটান ইতিমধ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। নেপালে চলতি বছর অনুষ্ঠেয় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সময় এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

আজ বিকেলে থিম্পুতে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে। এ বৈঠকে নদীর অববাহিকাভিত্তিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবিদ্যুৎ, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা, কানেক্টিভিটি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে থিম্পুর আপত্তির কারণে ভুটান, বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন) চার দেশীয় মোটরযান চলাচলের উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সফরে মোটরযান চুক্তির ব্যাপারে দেশটিকে বোঝানোর চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আজ থিম্পুতে শীর্ষ বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে ছয়টি চুক্তি ও এমওইউ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলো হলো দ্বৈত কর পরিহার, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যমান, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, ভুটান কর্তৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ রুট ব্যবহার, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভুটান কর্তৃক বাংলাদেশ দূতাবাস স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ করা বিষয়ক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, থিম্পুতে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন শেখ হাসিনা। এ ছাড়া সেখানে অনুষ্ঠেয় ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব অটিজম’ সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা ড্রুক এয়ারের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে ভুটানের পারো বিমানবন্দরে পৌঁছবেন সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও থিম্পুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিষ্ণু রায় চৌধুরী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। এ সময় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির ঐতিহ্যবাহী ‘খাদার’ (স্কার্ফ) উপহার দেওয়া হবে। এরপর তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের পর বর্ণাঢ্য মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে লা মেরিডিয়ান থিম্পুতে নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেনসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক ও রানি জেটসান পেমার সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি রাজকীয় প্রাসাদের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন। বিকেল ৫টায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন শেখ হাসিনা। এরপর চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে তিনি তাঁর সম্মানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন।

আগামীকাল বুধবার সকালে শেখ হাসিনা রাজকীয় আপ্যায়ন হলে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে ‘অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী দেশটির প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেবেন। তিনি আগামীকাল বিকেলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্ট সমস্যার যথাযথ সমাধানে সক্ষমতা অর্জন শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করবেন। এ ছাড়া হেজো’তে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করবেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি ভুটানের রাজা ও রানির দেওয়া ব্যক্তিগত ভোজে অংশ নেবেন। পরশু বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।