চমত্কার চন্দ্রমল্লিকা

দেশে চন্দ্রমল্লিকার ব্যাপক চাষ কখনও হয়নি। অল্প কিছু শৌখিন ফুলপ্রেমী এই ফুলের চাষ করে আসছে। ফুল ফোটে শীতকালে। তবে এবার গরমকালেও চন্দ্রমল্লিকার দেখা মিলছে গাজীপুরের শ্রীপুরে। দেলোয়ার হোসেন নামে এক ফুলচাষি চন্দ্রমল্লিকা চাষের এই উদ্যোগ নিয়েছেন। বাণিজ্যিকভাবে চন্দ্রমল্লিকা চাষ করছেন ‘শ্রীপুরের ফুলের রাজা’ খ্যাত দেলোয়ার হোসেন। শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্ব খণ্ড এলাকায় প্রায় পৌণে একবিঘা জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন বহু রঙের চন্দ্রমল্লিকার চোখ জুড়ানো এক নান্দনিক বাগান। ফুলের সৌন্দর্য দেখতে তার বাগানে অনেক মানুষ আসছে। অসময়ের চন্দ্রমল্লিকায় ব্যবসাও হচ্ছে বেশ ভালো। দেলোয়ার হোসেন জানান, চন্দ্রমল্লািকা শীতকালের ফুল। এ বছর ফাল্গুন-চৈত্রের গরমেও পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য মিলেছে। এই মৌসুমে দেশের অন্য কোথাও চন্দ্রমল্লিকার চাষবাস না থাকায় ফুলের দামও মিলেছে ভালো। নির্দিষ্ট মৌসুমের বাইরে চাষ হলেও ফুলের আকার বেশ বড় হয়েছে। ফুলের ফলনেও আশানুরূপ সাফল্য মিলেছে। দেলোয়ার জানান, দেশি ও চায়না গোলাপ ও বিলেতি জারবেরা চাষে সাফল্যের পর বহু রঙের চন্দ্রমল্লিকা চাষেও সাফল্য পেয়েছি। আগামীতে ব্যাপক পরিসরে চন্দ্রমল্লিকার চাষ করব। পরিচর্যাকারী শ্রমিক মিরাস উদ্দীন জানান, আমাদের বাগানে লাল, সাদা, হলুদ, গোলাপি, বাদামি, বেগুনিসহ ছয় রঙের চন্দ্রমল্লিকা রয়েছে। প্রত্যেক গাছেই অসংখ্য কলি আসে। ভালো ও বড় ফুলের ফলন পেতে ২৫-৩০ কলি রেখে বাকি সব কলি কেটে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে একবার ফুল কাটিং করা হয়েছে। বাগানের প্রজেক্ট ম্যানেজার সেলিনা আক্তার জানান, চন্দ্রমল্লিকা খুব দামি ও শৌখিন ফুল। নানা রঙের চন্দ্রমল্লিকা ফুলপ্রেমীদের অন্য রকম মুগ্ধতা দেয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পুনে থেকে চন্দ্রমল্লিকার ছয়-সাত সপ্তাহের চারা কিনে আনা হয়। চারা রোপণের তিন মাস পরই ফুল কাটিং (সংগ্রহ) করা হয়। এক গাছে একবারই ফুল কাটিং করা যায়। চন্দ্রমল্লিকা শীতের ফুল হলেও আমরা ব্যতিক্রম সময়ে চাষ করেছি। পলি শেড দিয়ে ছাদ তৈরি করা হয়েছে। এতে ফুলে বৃষ্টির পানি লাগেনি। অসময়ে চাষ হলেও ফুলের আকার বেশ বড় হয়েছে। একগুচ্ছ চন্দ্রমল্লিকা (একত্রে ২০-২৫টি ফুল) বাজারে এখন পাইকারি দাম ৪০০-৬০০ টাকা। সেই একগুচ্ছ ফুল খুচরা বাজারে মেলে ৭০০-৯০০ টাকায়। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা জানান, চন্দ্রমল্লিকার বিভিন্ন জাত রয়েছে। বিভিন্ন রঙের চন্দ্রমল্লিকার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ছোট ও বড় প্রজাতির চন্দ্রমল্লিকা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা হয়। ছোট প্রজাতির মধ্যে, বাসন্তী, উজ্জ্বল হলুদ, হালকা বেগুনি ও হালকা গোলাপি। বড় প্রজাতির মধ্যে রয়েছে চন্দমা, স্নোবল, রোজডে ও পুইসা। অক্টোবরের দিকে এর চাষ শুরু হয়। শ্রীপুর উপজেলার সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএসএম মুয়ীদুল হাসান জানান, চন্দ্রমল্লিকা শীতকালের ফুল। অক্টোবরে ফুলের কুঁড়ি আসে আর নভেম্বরে ফুল ফোটে। চন্দ্রমল্লিকার গাছ ৫০-১৫০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়ে থাকে। গাছে খুঁটি বা সুতা দিয়ে বেঁধে দিতে হয় যাতে হেলে না পড়ে। পানি জমে থাকে না এমন স্থানে এই ফুলের চাষ করতে হয়। চন্দ্রমল্লিকা ফুল গাছে ২০-২৫ দিন তাজা থাকে। লম্বা ডাটাসহ এই ফুল কাটিং করা হয়। তবে দেলোয়ারের ব্যতিক্রম সময়ে চন্দ্রমল্লিকা চাষ করে অন্যরকম সাফল্য পেয়েছে। তার অভাবনীয় সাফল্য এই ফুলচাষে আমাদের চন্দ্রমল্লিকার এক নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হবে।