সেতু পেয়ে খুশি গ্রামবাসী

ব্যাপক উৎসব আর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যশোরের শার্শা নাভারন কাটশাখরা পল্লীতে ব্যক্তিগত অর্থে বেত্রাবতী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। ফলে কাটশাখরা সেতুতে খুলে গেল পাঁচ গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্যের দুয়ার। সেতুর দুইপাশে সোলারের আলোক রশ্মিতে খুশি এলাকার মানুষ। দীর্ঘদিন পর পল্লীর অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে নাভারন শহরের সঙ্গে যুক্ত হলো দূরবর্তী গ্রাম এলাকার মানুষ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, চাকরি, ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেতু কাজে আসবে বলে জানান কাটশাখরা গ্রামের মানুষ।

যশোর-১ আসনের শার্শা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের ব্যক্তিগত ৮৫ লাখ টাকায় নির্মাণ করা হয় ৬৮ মিটারের এ সেতু। পিলারের ওপর স্টিল বসিয়ে সুসজ্জিত এ সেতুটি উপহার দেন এমপি শেখ আফিল উদ্দিন। রাতে সেতু দিয়ে চলাচলের জন্য ওপরে লাইটিং করা হয়। দুইপাশে দৃষ্টিনন্দন গ্রিল বেড়া নির্মাণ করা হয়। ভালো মানের সেতু পেয়ে আবেগ আপ্লুত সাধারণ মানুষ।
রোববার সকালে ফিতা কেটে, বেলুন উড়িয়ে ও পর্দা সরিয়ে এ সেতুর উদ্বোধন করেন এমপি আফিল উদ্দিন। পরে গ্রামবাসীর আয়োজনে উদ্বোধনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে। কর্মই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। মানুষ কর্মের মাঝে চিরজীবন বেঁচে থাকে। পৃথিবীতে মহান ব্যক্তিরাই কর্মদ্বারা নিজেদের মানুষের কাছে বাঁচিয়ে রাখেন। আমাদেরও সে মহান ব্যক্তিদের মতো কর্মের দ্বারা সমাজের কাছে পরিচয় বহন করার নিদর্শন রেখে যেতে হবে। এ গ্রামের ভোট নেয়ার জন্য এর আগে বহুলোক সেতু নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
কিন্তু কেউ প্রতিশ্রুতি রাখেনি। আল্লাহ আমাকে সে প্রতিশ্রুতি রক্ষার সক্ষমতা দিয়েছেন। তাই আমি এ সেতু আজ উদ্বোধন করতে পেরেছি। ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সালেহ আহম্মেদ মিন্টু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া আফরোজ, চেয়ারম্যান আয়নাল হক, সেলিম রেজা, নাসিম রেজা, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুর রহিম সর্দার ও সাইফুর রহমান প্রমুখ।
স্থানীয় আরিফা ও আবদুল কাদের বলেন, সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় ৩০০ মিটার পথে নাভারন বাজারে যেতে এখন সময় লাগবে ৫ মিনিট। আগে কয়েক গ্রাম ঘুরে সময় লাগত ১ থেকে ২ ঘণ্টা। সময় ও অর্থ বাচবে। উপকৃত হবে এলাকার মানুষ।