নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ

যৌতুকের টাকার অভাবে গ্রামের যেসব হতদরিদ্র মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না, সেসব মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ক্ষোর্দ্দকোমরপুর গ্রামের এম আবদুস সোবহান। হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মমুখী করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এম আবদুস সোবহান তার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কর্মীরহাতের মাধ্যমে এই পর্যন্ত ২৩৪ জন হতদরিদ্র মেয়েকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মমুখী করেছেন। এসব মেয়েকে এখন আর যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিতে হচ্ছে না। তারা কাজ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। এম আবদুস সোবহান জানান, কর্মীরহাতের মাধ্যমে প্রথমে বিয়েযোগ্য হতদরিদ্র মেয়ে খুঁজে বের করা হয়। এরপর বিনামূল্যে তাদের ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেন। প্রশিক্ষণে সেলাই মেশিন চালানো, কাপর কাটিং, উন্নত প্রযুক্তিতে হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু পালন, শিক্ষা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, নারী উন্নয়ন ও ইভটিজিং প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এভাবে প্রশিক্ষণ শেষে মেয়েদের বিনামূল্যে একটি করে সেলাই মেশিন, আনুষঙ্গিক অন্যান্য জিনিস এবং পুুঁজি হিসেবে টাকা দেওয়া হয়। এভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেয়েরা আর্থিক উপার্জনে সক্ষম হন। উপজেলার কাজীবাড়ি সন্তোলা গ্রামের রুমি আক্তার, জয়েনপুর গ্রামের আশা আজাদীসহ কয়েকজন জানান, প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা কাটিং ও সেলাইয়ের কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এলাকার অন্য নারীরা তাদের কাছে কাজ শেখেন। উপজেলার ক্ষোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান চৌধুরী বলেন, এম আবদুস সোবহান সব সময় গ্রামের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছেন। এর মধ্যে তার যৌতুকবিরোধী প্রচারণা এলাকায় সাড়া জাগিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহ্সান হাবিব বলেন, আমাদের সমাজে এম আবদুস সোহবানের মতো মানুষের অভাব। আমাদের উচিত তাকে অনুসরণ করে ভালো কাজ করা।