পানিতে মাছ, ডাঙায় হাঁস

পানিতে মাছ, ডাঙায় হাঁসঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার পূর্ব বনগাঁও গ্রামের পশ্চিম মোঃ মনজুর আলমের আরজু বেগম মৎস্য খামার। প্রায় ২১ বিঘা আয়তনের এ খামারে একটু পরপরই মাছ লাফ দিয়ে ওঠে। এর পূর্ব-দক্ষিণ কোণে বাঁশ-টিনের ঘরে হইচই করে প্রায় ১ হাজার হাঁস। এখানে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৬০০ ডিম পাওয়া যায়। ডিমের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানালেন খামারটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি খামার মালিক মোঃ মনজুর আলমের ছেলে।
আলাপকালে আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তিনি ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয় এলএলবি অনার্স পাস করেছেন। চাকরি কিংবা পরাধীনভাবে কোনো কাজ করার আগ্রহ তার কখনও ছিল না। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন স্বাধীনভাবে কাজ করে সফল হওয়ার। এ চিন্তা থেকেই গড়ে তুলেছেন মৎস্য খামার। পাশাপাশি এখানে ১ হাজার হাঁস পালন করা হচ্ছে। নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় ৪০০ হাঁসের বাচ্চা ফোটানো হয়েছে। আরও বাচ্চা ফোটানোর প্রক্রিয়া চলছে। চাহিদা মেটানোর পর এ বাচ্চা অন্যদের কাছে বিক্রি করা হবে। ২০১৪ সালে এ প্রকল্পটি তিনি হাতে নিয়েছেন। ৮ হাজার ও ৭ হাজার টাকা মাসিক বেতনে দুইজন লোক নিয়মিত কাজ করেন। তাছাড়া খামারের উন্নয়নের কাজে দৈনিক চুক্তিতে প্রায়ই পাঁচ থেকে ছয়জন কাজ করেন। প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে খামারটি গড়ে তোলা হয়েছে। ২ বছরে ১৫ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। ১০ একর জমির খামারে বড় পুকুরের চারপাশে ছোট আকারের আরও আটটি পুকুর রয়েছে। ডিম থেকে এখানেই মাছের পোনা উৎপন্ন করা হয়। পুকুরপাড়ে লেবু, পেয়ারা, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফলের চারা লাগানো হবে। এ প্রকল্পে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক আর্থিক সহযোগিতা করেছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নিয়াজ উদ্দিন বলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন উচ্চশিক্ষিত হয়েও মৎস্য খামার গড়ে তুলেছেন। এটা প্রশংসনীয়। তার খামার পুষ্টিগুণ-খাদ্যঘাটতি পূরণে জাতিকে সহায়তা করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। বেকার যুবকদের তিনি আবদুল্লাহ আল মামুনকে অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।