জেলায় জেলায় হচ্ছে শিল্প কারখানা

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করতে জেলায় জেলায় শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ২৫টি শিল্প ক্লাস্টার বেছে নিয়ে তাতে ৪৫০ কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিল পরিচালনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় তিন হাজার ক্ষুদ্র কৃষিভিত্তিক শিল্পে আরও প্রায় পৌনে দুইশ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিভিত্তিক এসব শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। যে জেলায় যে কৃষি ও শিল্পপণ্যের ঐতিহ্য রয়েছে, সে জেলায় সেই শিল্প প্রসারে ব্যাংকগুলোর ঋণ সহায়তা বাড়ানোর নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি এসব শিল্প গড়ে তোলায় বিসিক ও এসএমই ফাউন্ডেশনকেও উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ৬ মার্চ প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ‘জেলাভিত্তিক প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সম্ভাবনা চিহ্নিত করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ উৎসাহিত করতে হবে। যে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরে উৎপাদিত আনারস দিয়ে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার পরামর্শও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ’

জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা মধুপুরসহ সারা দেশে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য মফস্বলভিত্তিক শিল্প স্থাপনে ৪৫০ কোটির টাকার একটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিল পরিচালনা করছেন। এরই মধ্যে এ ধরনের শিল্পে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পুনঃ অর্থায়নের মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশকে উৎসাহিত করছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তাদের উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সারা দেশে ২৫টিরও বেশি শিল্প ক্লাস্টারের উন্নয়ন ও তাতে অর্থায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— বগুড়ার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, মৌলভীবাজারের মণিপুরি তাঁত, ভৈরবের চামড়া ও জুতা ক্লাস্টার, কুমিল্লার খাদি ক্লাস্টার, মুন্সীগঞ্জের বাঁশ ও বেত ক্লাস্টার, জামালপুরের হস্তশিল্প, রংপুর ও সিরাজগঞ্জের তাঁত, সৈয়দপুরের ক্ষুদ্র গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং এবং শেরপুর ও বগুড়ার কৃষি যন্ত্রপাতি ক্লাস্টার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষিভিত্তিক শিল্পে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অর্থায়নের অগ্রগতি চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। গত বছর জুলাই থেকে চলতি বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা এ অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় তিন হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিয়েছে বিকেবি। এর মধ্যে যেসব ছোট ছোট শিল্প রয়েছে সেগুলো হচ্ছে— হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং, হস্তশিল্প, খাদিশিল্প, তাঁতশিল্প, নকশিকাঁথা, কুটির শিল্প, কোল্ড স্টোরেজ, মণিপুরি তাঁত, ফার্নিচার কারখানা, পাথরশিল্প, শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ, জুয়েলারি কারখানা, বাঁশ, বেত ও কাঠের আসবাব কারখানা, নৌযান তৈরি, পোলট্রি খামার, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, উপজাতীয় বস্ত্র, লবণ কারখানা, চিংড়ি ও লবণ হ্যাচারি, অটো রাইস মিল, চামড়া শিল্প ইত্যাদি।