প্রস্তুত আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার

চট্টগ্রাম মহানগরীর লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত প্রধান সড়কে মুরাদপুর-লালখানবাজার আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন হবে চলতি মাসের শেষ দিকে। চট্টগ্রামের বৃহত্তম ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ বর্তমানে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ। র‌্যাম্প ও লুপ ছাড়াই এটি চালু করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জুনে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরীর নামে এই ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ৬৯৬ কোটি টাকায় ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করছে। ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫৪ ফুট প্রস্থের ফ্লাইওভারটির মূল অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৪৫০ কোটি টাকা এবং বাকি ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয় দুটি র‌্যাম্প ও লুপ তৈরি কাজে। মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারটি মুরাদপুর এন. মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারের সামনে থেকে উঠে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের পশ্চিম গেটের সামনে হয়ে লালখান বাজারে এসে নামবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের মূল কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অবশিষ্ট কিছু কাজ শেষ করে এ মাসের শেষদিকে যান চলাচল শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জুনে এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

তিনি বলেন, ফ্লাইওভারটি চালু হলে নগরের প্রধান সড়কে যানজট অনেক কমবে। জিইসি মোড় ও ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় যানজট থাকবে না।

ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহফুজ রহমান বলেন, ২০১৫ সালের মার্চে মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। ইতিমধ্যে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। দুই মাস আগেই সব কাজ শেষ হবে।

সিডিএ সূত্র জানায়, পরীক্ষামূলক যান চলাচল শুরুর পর জিইসি মোড় এলাকায় উড়াল সড়কে ওঠা-নামার জন্য লুপ ও র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ শুরু হবে। বর্তমানে ষোলশহর ২ নং গেটে লুপ ও র‌্যাম্পের কাজ চলছে। জুনের শুরুতে ষোলশহরে এবং শেষদিকে জিইসি মোড়ের র‌্যাম্পের কাজ শেষ হবে। জিইসি মোড়ে চারটি ও ষোল শহরে দুটি মোট ছয়টি লুপ ও র‌্যাম্প হবে।

চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের আগে কাঠগড়বাজার পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার প্রধান সড়ক। এ সড়ক হয়েই যেতে হয় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এ সড়কের মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার উড়াল সড়ক নির্মিত হচ্ছে। চার লেনের মূল সড়কের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৭৫০ মিটার। ফ্লাইওভারের জিইসি মোড়ে চারটি র‌্যাম্প হবে। ওয়াসা থেকে জিইসি মোড়ের দিকের গাড়িগুলো জিইসি কনভেনশনের সামনে এবং মুরাদপুরের দিকে যাওয়া গাড়িগুলো ইফকো কমপ্লেক্সের সামনে থেকে ফ্লাইওভারে উঠতে পারবে। মুরাদপুর থেকে জিইসি মোড়ের দিকের গাড়িগুলো মেরিডিয়ানের সামনে নামতে পারবে এবং ওয়াসার দিকে  যাওয়া গাড়িগুলো বুসেন গার্ডেনের সামনে থেকে উঠতে পারবে। ষোলশহর দুই নম্বর গেটে বায়েজিদ বোস্তামী রোডের দিকে দুটি লুপ থাকবে। একটি লুপ দিয়ে গাড়ি যেতে পারবে এবং অপরটি দিয়ে গাড়ি আসতে পারবে।