সাক্ষাতে প্রণব মুখার্জিঃ শেখ হাসিনার সফরে সম্পর্কের উন্নতির প্রতিফলন আছে

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে একটা ধারাবাহিকতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরে সম্পর্কের উন্নতির প্রতিফলন আছে। সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রণব মুখার্জি।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় প্রণব মুখার্জির সঙ্গে শেখ হাসিনার সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রণব মুখার্জি এসব কথা বলেন। পরে রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন শেখ হাসিনা।

এর আগে একই স্থানে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। এ ছাড়া সকালে প্রধানমন্ত্রী আজমির শরিফে খাজা মইনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।

ভারতে চার দিনের সফরের তৃতীয় দিনে গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি থেকে খাজা মইনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর দরগায় পৌঁছান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করেন। বিকেলে তিনি নয়াদিল্লি ফেরেন।

সন্ধ্যায় প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আগের দিনের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন শেখ হাসিনা ও প্রণব মুখার্জি।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সর্বান্তকরণে সমর্থন দেওয়ার জন্য প্রণব মুখার্জিকে ধন্যবাদ জানান।

পরে শেখ হাসিনা তাঁর সম্মানে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এ নৈশভোজে অন্যান্যের মধ্যে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রধান বিচারপতি জগদীশ সিং খেহার, লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অংশ নেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও নৈশভোজে অংশ নেন।

নৈশভোজের আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিল্পীরা লোকসংগীত, নাটক ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

সোনিয়া গান্ধীর সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি ভবনে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অভিন্ন।’

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, সোনিয়া গান্ধী দুদেশের মধ্যে সম্পাদিত স্থলসীমান্ত চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের সময় এই চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকালে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে ছিলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও কংগ্রেস দলের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী।