বাংলাদেশের সক্ষমতায় অভিভূত বিশ্ব নেতারা

ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব মার্টিন চুঙগং বলেছেন, আইপিইউ সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব নেতাদের কাছে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিমত প্রকাশ করেন। আলাপকালে তিনি ঢাকায় প্রথমবারের মতো আইপিইউ’র সম্মেলন আয়োজনের পেছনের গল্প তুলে ধরেন। কথা হয় বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ নিয়ে। তিনি ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চারও। মার্টিন চুঙগং বলেন, যখন আইপিইউ আয়োজনের জন্য আমরা বাংলাদেশকে বেছে নিই, তখন অনেকেই নানারকম সংশয়ের কথা বলেছিলেন। সম্মেলনের জন্য বাংলাদেশ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারবে কি না তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল। বিশেষ করে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে তারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাই এবং ঢাকায় সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই। এখনো পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক কিছু না হওয়ায় বাংলাদেশের এই সক্ষমতা অবাক করেছে আইপিইউ প্রতিনিধিদের। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলা প্রসঙ্গে আইপিইউ মহাসচিব বলেন, আমি মনে করি, সন্ত্রাসবাদ এখন আর কোনো জাতীয় বা আঞ্চলিক সমস্যা নয়। আরেকটু খোলাশা করে বললে বলব, এটা বাংলাদেশের একার কোনো সমস্যা নয়। তবে এটা ঠিক যে, আমরা কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদকে বাড়তে দিতে পারি না। কেননা, সন্ত্রাসবাদ সব সময়ই গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তিনি বলেন, আপনি কখনোই একটা মানুষের ওপর জোরপূর্বক আপনার ধ্যান ধারণা ও বিশ্বাস চাপিয়ে দিতে পারেন না। অথচ মৌলবাদীরা এমনটিই করে থাকেন। তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই এমন। আমরা এই জায়গাগুলো আরও ভালোভাবে শনাক্ত করতে চাই। এটাই এবারের সম্মেলনের লক্ষ্য।

মার্টিন চুঙগং-এর মতে, সন্ত্রাস ও মৌলবাদ প্রতিরোধের বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আসা উচিত। যার যার দেশের সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এ বিষয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা উচিত। আমরা এই লক্ষ্য নিয়েই আইপিইউ সম্মেলনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বব্যাপী সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চা ও প্রতিষ্ঠার পক্ষে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে যাওয়া মার্টিনের কাছে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় কতখানি এগিয়েছে জানতে চাইলে বলেন, আমি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চার ইতিহাস, বাস্তবতা কিংবা মান নিয়ে কথা বলতে পারি না। তবে আমি এখানকার সংসদীয় প্রতিনিধি ও আমার অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু বুঝি, তাতে মনে হয়েছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চার একটা শক্ত ভিত্তি আছে। এখানে শক্তিশালী সংসদ ও বিচারব্যবস্থা আছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমার একটি নিজস্ব মতামত আছে। গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে আমি যদি ইউরোপ, আমেরিকা চীন, রাশিয়া কিংবা বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশ নিয়ে কথা বলি, তবে সেখানেও কোনো কোনো সীমাবদ্ধতা আছে। অর্থাৎ সংসদীয় গণতন্ত্রে আরও কিছুটা উন্নয়নের সুযোগ আছে। এটি ক্রমাগত চর্চার বিষয়। সে কারণে আমি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য কোনো দেশেরই তুলনা কিংবা পার্থক্য করতে পারব না। সবশেষ আফ্রিকার বেশকিছু দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও তার উন্নয়নে কথা বলেন আইপিইউ মহাসচিব। তিনি বলেন, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বেশ উষ্ণ। যদিও এই সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলার আমি কেউ নই, কিন্তু তারপরও এতটুকু বলতে পারি, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক দৃঢ়। আর তাই যে কোনো দেশের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আরও সচেষ্ট থাকতে হবে। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ও সমতা আনয়নে এক হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই না সবার জন্য সম্মৃদ্ধি অর্জন সহজ হবে।