সবজি বাজারে সমৃদ্ধ লক্ষাধিক মানুষ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার সবজি বাজার। ভোরের আলো ফোটার আগেই ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে বাজার। প্রতিদিন বিক্রি হয় ৫ কোটি টাকার সবজি। এই কারবার থেকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এ বাজারের সিংহভাগ সবজির জোগানদাতা বুড়িচং, চান্দিনা, বরুড়া, সদর, দেবিদ্বার ও দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আবাদীরা। বিশেষ করে এখানে মোকাম, নিমসার, পরিহলপাড়া, রাজগুড়িপাড়া, মাধবপুর, জাঙ্গালিয়া, পিহর, কোরপাই, কাকিয়ারচর, মিথলমা, আবিদপুর, ছোটনা, শিবপুর, ভারেল্লা, লোদন, বাবাইল, বারিকোটা, চানগাছা, শাহদিলাবাদ, ডুবাইরচর, মনিপুর গ্রাম থেকে বেশি সবজি আসে। বেচা-কেনা থেকে এরই মধ্যে কুমিল্লার ৬ উপজেলার শতাধিক গ্রাম সমৃদ্ধ হয়েছে। সরেজমিন সম্প্রতি এ বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সবজি চাষিরা কাঁধে ঝুড়ি ঝুলিয়ে, কেউবা সাইকেলে, ভ্যান রিকশায় করে সবজি নিয়ে আসছেন। এ ছাড়াও উত্তরবঙ্গের সবজি বেপারিরা সেখানকার উৎপাদিত সবজি এ বাজারে নিয়ে আসেন। বিক্রি করা সবজি ট্রাক-মিনি ট্রাকযোগে চলে যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, কুমিল্লার ১৬ উপজেলার ২৫ হাজার ৮৫৮ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হচ্ছে। কৃষকরা জানান, এখানের মাটিতে বীজ ফেললেই ফসল ফলে। সবজির কারণে এ এলাকার মানুষ খেয়ে পরে ভালো আছে। তাই সবজিকে কেউ কেউ সবুজ সোনাও বলেন। আবিদপুর গ্রামের আবদুল করিম বলেন, বাপ-দাদার সময় থেকে আমরা সবজি চাষ করছি। আমাদের পরিবারের দেখাদেখি অন্যরাও এগিয়ে এসেছে। ধীরে ধীরে এ এলাকার সব গ্রামে শুরু হয়েছে সবজির আবাদ। এ অবস্থায় সবজি বিক্রির জন্য বাজারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। আর সে জন্য ১৬ জন চাষি নিয়ে ১৯৮৪ সালে নিমসার কাঁচাবাজার চালু হয়। তখন তাদের ৫০০ টাকা পুঁজি দিয়েছিলেন এলাকার দানবীর প্রয়াত জুনাব আলী। প্রথম বছর বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছিল ৬০০ টাকা। পরে সবজি চাষকে ঘিরে এলাকায় গড়ে উঠেছে অনেক বীজ ভাণ্ডার।

১৬ চাষির একজন বর্তমান নিমসার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবীর মেম্বার জানান, চাষিদের অনেককেই সবজি বিক্রির জন্য যেতে হতো কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জ। পরে নিমসার বাজারেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য কাঁচামালের আড়ত। বাজার ইজারাদারদের অন্যতম সামছুল হক মুন্সী বলেন, এবার ইজারা মূল্য ২ কোটি টাকা। তার অভিযোগ, এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। শৌচাগারের অবস্থাও ভালো নয়। বাজারের জায়গা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। না হলে মহাসড়কে বাজার বসে যানজটের সৃষ্টি হবে। কৃষি সম্প্রারণ অধিদফতর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. আসাদুল্লাহ জানান, নিমসার ও পাশের এলাকাগুলোতে প্রচুর সবজি চাষ হয়। এ চাষকে নির্বিঘ্ন করতে মাঠকর্মীরা নিরলসভাবে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করছেন।