ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী অণু আবিষ্কারে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

মানব শরীরে এমন একটি মলিকিউল বা অণু বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই মলিকিউলটি শরীরে বৃহদন্ত্রের ভিতর তৈরি হয়। এটি আবিষ্কারে স্থূলতা এবং ক্ষুধামন্দার চিকিত্সায় সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

 

শনিবার অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যম এসবিএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মেলবোর্নের ফ্লোরে ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স এবং যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল পেপটাইড ৫ নামে এই অণু আবিষ্কার করেন। আমাদের শরীরে খাবার দরকার আছে কি নেই, তা মস্তিষ্কে বার্তা পৌঁছে দেয় এই অণু। মানব শরীরে এই অণুর উপস্থিতির কথা জানা থাকলেও এটি কী কাজ করে তা এতদিন ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য। সম্প্রতি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী ড. আখতার হোসাইনের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী এই অণু আবিষ্কার করেন। ফ্লোরে ইনসুলিন পেপটাইডস ল্যাবরেটরির প্রধান ড. আখতার হোসেইন বলেন, ‘২০০৮ সালে আমি ল্যাবরেটরিতে পেপটাইড ৫ নামে কৃত্রিম একটি হরমোন তৈরি করি। এই খবরটি একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার পর একটি ওষুধ কোম্পানি ও ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির কয়েকজন গবেষক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা এই অণুটি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। আমি তাদের এই মলিকিউটি তৈরি করে দিই এবং যৌথভাবে এই হরমোনের কার্যাবলী আবিষ্কার করি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এই হরমোনটি যদি আমরা ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করি, তাহলে ইঁদুরের খাবার গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যাবে। আবার ইঁদুরকে যদি এই হরমোনের টার্গেট, যাকে আমরা রিসেপ্টর বলি। এই রিসেপ্টরকে যদি নিউট্রিলাইজ করে দিই, তখন সেই হরমোন আর কাজ করে না। আবার আমরা এমনভাবে কিছু ইঁদুর তৈরি করি, যাদের ওই টার্গেটটাই নেই। তখন তাদের ওপর এই ইনসুলিন প্রয়োগ করে দেখেছি, তারা খায় না। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, এই হরমোন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ ওষুধ বাজারে পাওয়া যেতে পারে।’