বদলে গেছে বানারীপাড়া ও উজিরপুরের গ্রামীণ জনপথ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে  দেশজুড়ে  চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহা-কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে বরিশালের বানারীপাড়া ও উজিরপুরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে। গত ৮ বছর ধরে বরিশালের এ দুই উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। উন্নয়নের ছোঁয়ায় গ্রামীণ জনপদ এখন অবয়বে শহুরে জনপদে রূপ নিয়েছে। ফলে চোখে পড়ার মতো সরকারের এ উন্নয়নের জয়গান এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।

 

২০০৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর এই দুই উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে । বানারীপাড়া পৌরসভায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতল পৌর ভবন নির্মাণ ও ওয়াটার সাপ্লাই’র কাজ,  কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ, গোরস্থান ও শ্মশান ঘাট এবং রাস্তা-ঘাট,  ড্রেন, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ পৌর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। ৫ কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের আধুনিক বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বানারীপাড়ার লবণসাড়া গ্রামে ১০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করার পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বানারীপাড়া ও উজিরপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার মানুষ অতি সহজ পথে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যেতে পারে এ জন্য জাইকা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৬ শ কোটি টাকা ব্যয়ে বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের শিয়ালকাঠি থেকে দুর্গম ইউনিয়ন বিশারকান্দি পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৯৮টি ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করেন।

 

এছাড়া কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে উজিরপুর শহর থেকে ধামুড়া-হারতা-সাতলা-কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া সড়ক পাকাকরণ ও অসংখ্য ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতলা নদীতে ১২০ কোটি ও হারতা নদীতে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্ আকারের ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বানারীপাড়া ও উজিরপুরে শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা এবং কলেজে বহুতল ভবনও সাইক্লোন শেল্টার  নির্মাণ করা হয়েছে এবং বেশ কিছু ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এ দুই উপজেলায় প্রায় দুইশ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক  পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার কাজ করা হয়েছে। গত ৮ বছরে এ দুই উপজেলায় কমপক্ষে দুই শতাধিক ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীর ওপর স্বপ্নের সেতু নির্মাণ ও বিশারকান্দিতে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও স্থান নির্ধারণের প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, চার্চ, প্যাগোডা, ক্লাবসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে। এ সব উন্নয়নের কাজ সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির আমলে শুরু হলেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস।