তিস্তার চরে সবজির চাষ

রংপুরের কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর জেগে ওঠা চরাঞ্চলের বালুতে চলতি মৌসুমে কুমড়া চাষে বিপ্লব ঘটেছে। বালুচরের কুমড়ার হলুদ ফুলের নান্দনিক শোভায় মুগ্ধ কৃষক, থমকে দাঁড়ায় পথিকরাও। দিগন্তজুড়ে বালুচরে শুধু মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টিআলু, রসুন, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছে চাষিরা। তাদের উত্পাদিত এসব সবজি এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। যে বালুচরে কোনোদিন কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হয়নি সেই খসখসে তপ্ত বালুর চরে সবুজে ছেয়ে গেছে। চরের বালুতে মিষ্টিআলু, রসুন, পেঁয়াজসহ লতাযুক্ত কুমড়া গাছের ডালে ডালে লাল-হলুদ বড় বড় মিষ্টিকুমড়া সবার নজর কেড়েছে। সরেজমিন গঙ্গাচড়া উপজেলার চরমর্নেয়া, শঙ্করদহ, ধামুর, কোলকোন্দ, শিঙ্গিমারী ও নোহালিচর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আবাদকৃত মিষ্টিকুমড়াসহ অন্যান্য সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে কৃষকরা। চরশিঙ্গিমারীর কৃষক ইলিয়াছ মিয়া, মতিয়ার মিয়া, হরিকান্ত বর্মণ, কৃষাণি আরতি রানী, ঝুমু রানী ও বিলকিস বেগম জানান, তারা গত তিন বছর থেকে মিষ্টিকুমড়াসহ নানা জাতের সবজি চাষ করছেন। কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজিব গ্রামের দিনেশ চন্দ্র, শফিকুল, বালাপা তালুক সাহবাজ গ্রামের কৃষক আ. খালেক জানান, তাদের বাপ-দাদার আমলে কখনও এসব বালুচরে কোনো ফসলের চাষ হয়নি। এবার কোনো কোনো কৃষকের ২শ’-২৫০ গাদায় কুমড়া চাষ করেছে। নভেম্বর মাসে একটি করে গাদায় দুই থেকে তিনটি চারা রোপণ করা হয়। ২শ’ গাদায় তাদের খরচ হয়েছে ৫-৭ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে প্রতিজন চাষির কুমড়া বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৫-১৬ হাজার টাকা। জমিতে যে পরিমাণ কুমড়া রয়েছে তাতে তাদের আরও ৮-১০ হাজার টাকার বিক্রি হবে। তারা জানান কুমড়া চাষে বেশি সমস্যা হয় তপ্ত বালুচরে সেচ দেওয়া। চরে পানি সংরক্ষণ করা খুবই কঠিন হয়। কুমড়া চাষে তেমন কোনো রোগবালাই নেই, মাঝেমধ্যে ছোট থাকতে কিছু কুমড়া পচে যায়। এই চাষে জৈব সার ছাড়া তেমন কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় না। কৃষকরা তাদের উত্পাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে যাতে বিদেশে রফতানি করতে পারেন সেজন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ এবং উত্তরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় এ বছর গঙ্গাচড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ১৯০ হেক্টর বালু ও কাউনিয়া উপজেলার প্রায় ৭৩ হেক্টর বালুচরের জমিতে কৃষকদের ঐকান্তিক চেষ্টায় চলতি মৌসুমে মিষ্টিকুমড়াসহ অন্যান্য সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এই উত্পাদিত কুমড়া বর্তমানে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রফতানি হচ্ছে। ইউপিডিএসের বিজনেজ ফ্যাসিলেটর অঞ্জলি রায় জানান, প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতায় ইউপিডিএস তিন বছর থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান ও গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, চলতি মৌসুমে বালুচরে অল্প খরচে অধিক ফলন এবং দাম পেয়ে চাষিরা কুমড়া ও স্কোয়াসসহ বিভিন্ন সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কৃষকদের দিয়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মিষ্টিকুমড়া চাষ করা হচ্ছে এবং তাদের আবাদকৃত এসব সবজি সবসময় আমরা তদারক করছি।