এগিয়ে যাচ্ছেন নারী উদ্যোক্তারা

যে নারীরা ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী থাকতেন তারাই আজ ঘর থেকে বের হয়ে ব্যবসায় জড়াচ্ছেন। হয়ে উঠছেন শিল্পপতি। জেলায় জেলায় গড়ে উঠছে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সংগঠন। এ ছাড়া সামাজিকভাবেও নারী উদ্যোক্তারা এখন সম্মানিত। আর এ বিষয়ে তাদের আগের চেয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারীরা ব্যবসার ক্ষেত্রে বেশ সচেতন। কারণ তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে তা সময়মতো শোধ করেন। সততা ও মনোযোগের সঙ্গে ব্যবসা করেন বলেই নারীরা সফল হচ্ছেন। কিছু প্রতিকূলতা থাকলেও ক্রমেই বাধা ঠেলে এগিয়ে আসছেন নারী উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে দেশের কয়েকজন সফল নারী উদ্যোক্তা এমনটিই জানান। এমনকি নারী উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। বাংলাদেশে ব্যবসা ক্ষেত্রে মোট মালিকদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা ৩১.৬ শতাংশ (সূত্র : মাস্টারকার্ড ইনডেক্স অব উইমেন আন্ট্রেপ্রেনিউরস)।

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৭ হাজার ৪৯০ জন নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আর মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের আওতায় নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রয়াস কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে ‘জয়ীতা’ বিপণন কেন্দ্র। তৃণমূল পর্যায়ে ১৬ হাজারের বেশি নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিও আছে। এ সমিতির সদস্যদের মধ্যে আছে অসংখ্য নারী উদ্যোক্তা।

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সেলিমা আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের দেশে বেকারত্বের হার বেশি। এর পরও সরকারের রাজস্ব কোষাগারে নারীদের আয়ের টাকা জমা হচ্ছে। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। আর নারীরা আগে অর্থনীতিতে সেভাবে অবদান না রাখলেও এখন তারা সচেতন হয়েছেন। নারীরা এখন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় এগিয়ে আসছেন। আগের চেয়ে তাদের ক্ষমতায়নও বেশি হচ্ছে। তবে নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নারীরা যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে বড় ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারে, সে জন্য ব্যাংক থেকে তাদের স্বল্প সুদে বড় অঙ্কের ঋণ সুবিধা দিতে হবে। ’ উইমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল বলেন, এ কথা ঠিক যে ব্যবসার জন্য নারীদের এখনো ব্যাংক ঋণ নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই ঢাকার বাইরে থাকেন। আর ব্যাংক ঋণ বিষয়ে তারা তেমন সচেতন নন। ব্যবসায় সফল হতে হলে নারীদের আরও আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। যে নারীরা ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী থাকতেন, তারাই আজ ঘর থেকে বের হয়ে ব্যবসায় জড়াচ্ছেন। এটি অবশ্যই ইতিবাচক। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআইসি) পরিচালক মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, পাহাড়ি এলাকাতেও উপজাতি নারীরা কৃষিকাজ করে সংসারে সচ্ছলতা আনছেন। তাদের স্বামীরা সেভাবে সংসারে আর্থিক সহায়তা করেন না। কিন্তু বাজারে যখন পাহাড়ি নারী তার কৃষিজ পণ্য বিক্রি করতে যান, তখন ভালো দাম পান না। এ জন্য এসব এলাকায় নারীদের জন্য ওয়্যারহাউস বা গোডাউন তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পরে এসব স্থান থেকে পণ্যগুলো শহরের বিভিন্ন সুপার শপে বিক্রির ব্যবস্থা করা গেলে এই নারীরা পণ্যের যথাযথ দাম পাবেন। জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নারী উদ্যোক্তা হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে অনেক সময় পুরুষরা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। আমি দীর্ঘ ২৫ বছর যুদ্ধ করে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছি। আমার মতে, করপোরেট লেভেলে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি হওয়া প্রয়োজন। আর নারীরা সততা ও মনোযোগের সঙ্গে ব্যবসা করেন বলেই তারা সফল হচ্ছেন। ’ তিনি বলেন, যে নারীরা নতুন ব্যবসা শুরু করেন, তাদের ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে কিছুটা সমস্যা হয়। নারীদের ব্যবসা করার জন্য ব্যাংক থেকে যে ঋণ দেওয়া হয়, এর সুদ কমানোর দাবি জানান তিনি। ।

Views: 57