সূর্যমুখীতে কৃষকের মুখে হাসি

মৌলভীবাজারের মাঠে মাঠে সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহ। জেলার কৃষি বিভাগের প্রণোদনা এবং ইউটিউবের কল্যাণে চাষিরা সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এ বছর বিভিন্ন অঞ্চলে ১২ হেক্টর জমিতে এ রবিশস্য চাষ করা হয়েছে। এতে ভোজ্যতেল তৈরির প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। কোলেস্টেরলমুক্ত ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে সংশিল্গষ্টরা জানান। সদর খলিলপুর ইউনিয়নের নাদামপুর, মনুমুখ ইউপির বিভিন্ন স্থান, কনকপুরের নলদাড়িয়া, একাটুনার দক্ষিণবালি, গিয়াসনগর ইউপিসহ বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী প্রসার লাভ করেছে। সংশিল্গষ্ট কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে বীজ বিতরণ ও মাঠসভা করছে। শুষ্ক মৌসুমের অগ্রহায়ণে সূর্যমুখী চাষ শুরু করা হয়। দু-তিনবার পানি সেচে তিন মাসে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষে ৪০-৪২ হাজার টাকা খরচ হয়। তা থেকে আয় হতে পারে লাখ খানেক টাকা এ তথ্য জানালেন চাষিরা। কৃষি বিভাগ আরও জানায়, উৎপাদিত সরিষা প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে ১০-১১ শতাংশ তেল পাওয়া যায়। অন্যদিকে, সূর্যমুখী থেকে ২০-২২ শতাংশ তেল সংগ্রহ করা যায়। সূর্যমুখী চাষের প্রসার ঘটলে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠবে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এক দেড় কেজি ওজনের সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল উৎপাদন হয়। এ ফুলের গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তেল উৎপাদনের পর বর্জ্য অংশ গোখাদ্য ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে জানা গেছে। সদর উপজেলার নলদাড়িয়া গ্রামে কৃষি বিভাগের পরামর্শে ও ইউটিউবে চাষ প্রক্রিয়া দেখে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সূর্যমুখী চাষ শুরু হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কান্তি দত্ত মোবাইল ফোনে বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় সূর্যমুখী চাষে যেভাবে সাড়া দিয়েছেন কৃষকরা, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে কৃষকরা আরও ব্যাপক মাত্রায় সূর্যমুখী চাষে এগিয়ে আসবেন। এতে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি গোখাদ্য এবং মাছের খাবার সংকট লাঘব হবে।