গাজরের বাম্পার ফলনে সিঙ্গাইরের চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক

বর্তমান সরকার কৃষি সেক্টরে গুরুত্ব দিয়ে কৃষকদের মাঝে সহজশর্তে ঋণ প্রদান সার, বীজ ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ দিয়ে সহায়তা করায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কৃষকেরা যেন গাজর চাষে মনোনিবেশ করে নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। দেশের অন্যান্য জেলার মাটির চেয়ে এ অঞ্চলের মাটি গাজর চাষের জন্য বেশি উপযোগী হওয়ায় ফলনও হচ্ছে আশাতীত। একাধিক গাজর চাষির সাথে আলাপ হলে তারা বলেন, গাজর ও আখ এ দুটো ফসলের জন্য আমাদের এখানকার মাটি খুবই উপযোগী তাই অনকে সময়ই আখের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে আমরা গাজর চাষ করে থাকি। গাজর অল্পদিনেই তোলা যায়। বীজ বপন থেকে শুরু করে ৭০/৯০ দিনের মধ্যেই এটি উত্তোলন করা যায়। আগর বাইন দিতে পারলে মুনাফাটা একটু বেশি হয়। প্রতি বিঘা গাজরে আমাদের খরচ হয় ১৫/২০ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় বাজার ভালো থাকলে ৫০/৬০ হাজার টাকা। তারা আরো বলেন, সরকার ও কৃষি বিভাগ এবছর আমাদের যেভাবে সহজশর্তে ঋণ সার, বীজ, কীটনাশক ও তদারকি করেছেন। আরো আগে থেকে করলে আমরা আরো বেশি ফলন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করতে পারতাম। উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের গাজর চাষি আব্দুস সালাম ও বোরহান ফকির বলেন, আমরা একেক জনে ৫/৭ বিঘা জমিতে গাজর চাষ করেছি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গাজরে বেশ মুনাফা পেয়েছি আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায়। তারা আরো বলেন, আমাদের স্থানীয় হাট-বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার কাওরান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত ট্রাক গাজর যাচ্ছে। কৃষকরা বলেন, গাজর চাষে লোকসান যাবে তখনি যখন অতি বৃষ্টি ও বেজাল বীজ থাকবে। অনেক সময় দেখা যায়, অসাধু কিছুসংখ্যক বীজ বিক্রেতারা অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল বীজ ধরিয়ে দিচ্ছে কৃষকের হাতে আর তখনই কৃষকের সর্বনাশ হয়। সরকার যেন ভেজাল বীজ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন তাহলেই আমাদের আর লোকসানের মুখ দেখতে হবে না। সায়েস্তার কৃষক তরফ আলী বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে ৫/৭ জাতের গাজর আবাদ হয়ে থাকে। এদের মধ্যে এএসপি, নিউকরোডা, সাফালসিড, অরেঞ্জকিং, কেএসকরোডা ইত্যাদি জাতের বেশি আবাদ হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. টিপু সুলতান (স্বপন) বলেন, এ অঞ্চলের মাটি গাজর চাষের জন্য খুবই উপযোগী হওয়ায় এবং আমার বøক সুপারভাইজার তথা মাঠ পর্যায়ে অফিসাররা যথাসময়ে কৃষকদের হালচাষ ও বীজ বপনে সঠিক পরামর্শ দেওয়ায় কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন। এ উপজেলায় ১৬২৪৫ হেক্টর কৃষি জমির মধ্যে ১১৭০ হেক্টর জমিতে গাজরের আবাদ হয়েছে। ফলনও আশানুরূপ হয়েছে। আগামীতে এর চেয়ে বেশি ফলন হবে বলে আশা করছি। তিনি আরো বলেন, ফলন ভালো হলে ও দাম ভালো পেলে অবশ্যই কৃষকরা গাজর চাষে ঝুঁকবেন। আর গাজর অত্যন্ত প্রোটিন জাতীয় খাবার এর পুষ্টিগুণ ও অন্যান্য সবজির চেয়ে বেশি। গাজরে বিদ্যমান রয়েছে ক্যারোটিন নামক উপদান যা মানব দেহের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।