নাছিমার দারিদ্র্য জয়

নিজের হোটেলে কাজ করছেন নাছিমা _যাযাদিঅভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা ছিল নাছিমার। বড় মেয়ে ও মেঝ মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। স্বামীর রোজগারে সংসার চলতো না। স্বামীর সঙ্গে দিনমুজরির কাজ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেও লোকে মন্দ বলবে। কিন্তু উপায়ও ছিল না। হঠাৎ শুনতে পান, এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণচেতনা রি-কল প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সংস্থাটি।
পরে যোগাযোগ করা হলে নাছিমা আক্তার নামে ওই নারীকে সিবিও সংগঠন (কমিউনিটি বেসড অর্গানাইজেশন) সদস্য করা হয়। এরপর পাল্টে যায় নাছিমার ভাগ্য। সিবিও সদস্যদের আত্মনির্ভরশীল ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য গণচেতনা রি-কল প্রকল্প চরাঞ্চলের নারীদের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর নাছিমার চোখ খুলে যায়। নারীরা ঘরে বসে থাকলে সংসার-সমাজের উন্নতি হবে না এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না নাছিমার। তাই সে স্থানীয় আমখাওয়া বাজারে চায়ের দোকান দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যেই ভাবা, সেই কাজ। ২০১১ সালে গণচেতনা রি-কল প্রকল্পের দেয়া অনুদানের পাঁচ হাজার ২০০ টাকা দিয়েই আমখাওয়া বাজারে চায়ের দোকান দেয় নাছিমা। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের আমখাওয়া বাজারে এখন নাছিমার দেখাদেখি ৩২ জন নারী বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। বাজারে ৫৫টি দোকানের মধ্যে ৩২টিই নারী ব্যবসায়ী থাকায় এই বাজারটি ‘নারীর হাট’ বলে খ্যাতি লাভ করেছে। সফল নারী নাছিমা এখন শুধু চা-ই বিক্রি করেন না, সব খাদ্যপণ্য নিজেই তৈরি করে বিক্রি করছেন। তাই এই হোটেলকে নিজের ছেলের নামে ‘নাছির হোটেল’ নামকরণ করেন। তাকে সহযোগিতা করছেন তার স্বামী তরু মিয়া। অভাব দূর করে স্বাবলম্বী নারী নাছিমা আক্তার জানান, ভিটে-বাড়ি ছিল না, এখন সব হয়েছে। ১০ শতাংশ জমি কিনে নির্মাণ করেছেন বাড়ি।
গণচেতনা রি-কল প্রকল্পের সমন্বয়কারী শ্যামল রায় জানান, ২০১০ সাল থেকে দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অক্সফ্যামের সহযোগিতায় গণচেতনা রি-কল প্রকল্পের মাধ্যমে ঘাতসহিষ্ণু সমাজ গঠন, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছি।