নতুন অতিথি বিজয় মাধুরী ও বিলাসী

বিদেশি পরিবেশে বেড়ে ওঠা একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে তিনটি বাচ্চার জন্ম দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে এই তিনটি শাবক গত ২৬ জানুয়ারি জন্ম নেয়। শাবকগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে বিষয়টি গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিক জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
জন্মের ৪৫ দিনের মাথায় গত শুক্রবার রাতে খবরটি গণমাধ্যমকে জানান সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ইনচার্জ মো. শাহাবুদ্দিন। শাবক তিনটির মধ্যে একটি পুরুষ আর দুটি মাদি। বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন উপ-প্রধান বন সংরক্ষণ ড. তপন কুমার দে শাবক তিনটির নামকরণ করেছেন। এদের মধ্যে পুরুষ শাবকটির নাম বিজয় এবং মাদি শাবক দুটির নাম মাধুরী ও বিলাসী। জন্ম নেয়ার পর থেকে শাবকগুলোকে আলাদা বেষ্টনীতে মায়ের সঙ্গে রাখা হয়েছে। বর্তমানে মা এবং ৪৫ দিন বয়সী তিন শাবক সুস্থ আছে।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে ২০১৩ সালে দেড় বছর বয়সী ৫টি মা বাঘ পার্কে আনা হয়। বাংলাদেশের প্রকৃতিতে বাঘগুলোকে অভ্যস্ত করতে পার্ক কর্তৃপক্ষ কয়েক মাস নির্দিষ্ট কনজার্ভেটরিতে রেখে পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যা করেন। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস বাঘগুলোর প্রজনন মৌসুম। এ জাতের বাঘগুলো সাধারণত চার থেকে সাড়ে চার বছর বয়সে যৌবনপ্রাপ্ত হয়। বাচ্চা প্রসবের দেড় মাস আগে থেকে বাঘিনীকে আলাদা বেষ্টনীতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। গত ২৬ জানুয়ারি আমদানি করা ৫টির মধ্যে একটি মা বাঘ ৩টি বাচ্চার জন্ম দেয়। জন্মের পর থেকে শাবকগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সার্বক্ষণিক বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নবজাতকরা স্বাভাবিকভাবেই মা বাঘের দুধ খেয়ে সুস্থ আছে। মা বাঘকে প্রসব-পরবর্তী বিশেষ সেবা দেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, বাঘ শাবক ৮/৯ সপ্তাহ পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ পান করে। এরপর থেকে মাংস খেতে দেয়া হবে। কর্ডাটা পর্বের স্তন্যপায়ী শ্রেণীর এ জাতের বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম প্যান্থেরা টাইগ্রিস। এদের দেহের রং হালকা কমলার মধ্যে কালো-খয়েরি ডোরা কাটা দাগ রয়েছে। একটি বেঙ্গল টাইগারের গর্জন প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত শোনা যায়। একটি বাঘিনী ২ থেকে ৫টি বাচ্চা প্রসব করতে পারে।
আনিসুর রহমান জানান, ব্যাঘ্রশাবকগুলোকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে সাধারণ দর্শনার্থীদের পরিদর্শনের জন্য এখনো উন্মুক্ত করা হয়নি। গঠন পরিপূর্ণ হলেও চলাচলে স্বাভাবিক গতি আসা শুরু করলে শাবকগুলোকে নির্দিষ্ট কনজার্ভেটরিতে প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে।