কাঁকড়া চাষে নতুন মাত্রা

হ্যাচারিতে বাচ্চা উৎপাদনে কাঁকড়া চাষে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন দক্ষিণাঞ্চলের চাষিরা। প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কলবাড়িতে একটি হ্যাচারিতে কাঁকড়ার বাচ্চা উৎপাদন শুরু হয়েছে। ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ হ্যাচারিতে বছরে ৪০ লাখ কাঁকড়ার বাচ্চা উৎপাদন হবে; যা থেকে চাষিরা বছরে ৩৯ কোটি টাকার কাঁকড়া রফতানি করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত দিনে কাঁকড়ার বাচ্চা নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা হলেও তা এখন চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে সুন্দরবনের পাদদেশে অবস্থিত শ্যামনগর উপজেলায় সর্বপ্রথম কাঁকড়ার বাচ্চা ফুটিয়েছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান নওয়াবেকী গণমুখী ফাউন্ডেশন। এর ফলে এ অঞ্চলে কাঁকড়া চাষে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
নওয়াবেকী গণমুখী ফাউন্ডেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি মা কাঁকড়া থেকে ২০ হাজারের বেশি বাচ্চা সংগ্রহ করা সম্ভব। কাঁকড়া চাষিরা প্রতি কেজি ছোট কাঁকড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকায় সংগ্রহ করে মোটাতাজা করেন। তিন মাসেই একটি পুরুষ কাকড়া ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম এবং মাদি (মহিলা) কাঁকড়া ১৮০ থেকে ২৫০ গ্রাম ওজনের হয়। পরিপুষ্ট কাঁকড়া ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
কাঁকড়া চাষি বাবুলাল ম-ল বলেন, সাধারণত অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় কাঁকড়া ব্যবসা জমজমাট থাকে। আশ্বিন মাসে কাঁকড়ার চাষ শুরু হয়। দুই মাস পরপর কাঁকড়া বিক্রি করেন তারা। স্থানীয় ডিপোগুলোয় (কাঁকড়া বিক্রয় করা ঘর) কাঁকড়া কেনাবেচা হয়। মুন্সীগঞ্জের কাঁকড়া চাষি রামকৃষ্ণ ম-ল বলেন, তিনি ১০ কাঠা জমি চার ভাগে ভাগ করে সারা বছর কাঁকড়া চাষ করেন; সংসারের পাঁচ সদস্য আর দুই ছেলেকে লেখাপড়ার খরচ জুগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুধু রামকৃষ্ণ ম-ল নয়, মুন্সীগঞ্জের অনেক লোকই লাভজনক কাঁকড়া চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও কাঁকড়া চাষে সহযোগিতা করে থাকেন।
বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের তরুণ কাঁকড়া চাষি হান্নান বলেন, স্নাতক পাস করে কোনো চাকরি না হওয়ায় হতাশায় ভুগছিলেন; কিন্তু কাঁকড়া চাষে সেই হতাশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তারা চার বন্ধু মিলে ২০ হাজার কাঁকড়া খাঁচায় মোটাতাজাকরণ করছেন, প্রথমবারেই ভালো লাভ পেয়েছেন। অন্য চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছর ওজনভেদে মাদি কাঁকড়া ২০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পুরুষ কাঁকড়া ওজনভেদে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কলবাড়ি বাজার থেকে বুড়িগোয়ালিনি-মুন্সীগঞ্জ রাস্তার দুই পাশে শোভা পাচ্ছে হাজারো একর জমিতে কাঁকড়া চাষের প্লট। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে অনেকেই এখানে এসে কাঁকড়া চাষ শুরু করেছেন। কাঁকড়া চাষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কাঁকড়া মজুদ কারখানা। কাঁকড়া চাষের প্লটে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার মানুষের।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (কার্যক্রম) মোঃ ফজলুল কাদের জানান, বাংলাদেশে স্থাপিত প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কলবাড়িতে হ্যাচারিতে কাঁকড়ার বাচ্চা উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ হ্যাচারিতে বছরে ৪০ লাখ কাঁকড়ার বাচ্চা উৎপাদন হবে। ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ হ্যাচারিতে উৎপাদিত কাঁকড়ার বাচ্চা থেকে চাষিরা বছরে ৩৯ কোটি টাকার কাঁকড়া রফতানি করতে পারবেন।