এসডিজি অর্জনে সব মন্ত্রণালয় তিন ভাগ করার সিদ্ধান্ত

এসডিজি অর্জনে সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সচিব সভা। গুরুত্বানুসারে কিছু মন্ত্রণালয়কে নেতৃত্ব দানকারী মন্ত্রণালয় (লিড মিনিস্ট্রি), কয়েকটিকে সহনেতৃত্ব (কো-লিড) দানকারী এবং সহযোগী (এসোসিয়েট) মন্ত্রণালয় হিসেবে ভাগ করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী ২০২১ সালে বাংলাদেশেকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সরকারের আমলাদের গুরুত্ব অপরিসীম। সে লক্ষ্যে মঙ্গলবার সচিব সভায় এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়। এসডিজি অর্জনে মোট ১৬৯টি টার্গেট ও ২৩০ কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ।

বৈঠকে তিনি বলেন, এসডিজি আমরা ভালভাবে অর্জন করতে চাই। ইংরেজী বাক্য ‘ডু অর ডাই’ শব্দ থেকে তিনি ডাই শব্দটি ফেলে দিতে বলেন। তিনি বলেন, আমরা করবই। যে করেই হোক নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। আমরা ভালভাবে এবং বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। আর ভালভাবে বাঁচার জন্য যা যা করার দরকার তা আমরা করবই। বিশ্বে ইতোমধ্যে আমরা উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছি। সকল ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়ন ঘটিয়ে গোটা বিশ্বে আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।

সচিব সভায় বলা হয়, আমাদের মাথাপিচু আয় বাড়াতে হবে। কি কিভাবে আয় বাড়ানো যায় তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আরও নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কে কিভাবে কাজ করবে সে বিষয়ে প্রত্যেক সচিব বক্তব্য রাখেন। সভায় মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আর এক মন্ত্রণালয়ের যেন কাজের ক্ষেত্রে সমন্বয় থাকে সেদিকে সকলে খেয়াল রাখবেন। একে অপরের ভুল না ধরে যে যার মন্ত্রণালয়ের কাজ ভালভাবে দেখভাল করবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফরেন এক্সচেঞ্জ কিভাবে ডিল করবেন তার বিস্তারিত বর্ণনা করেন। এভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর কিভাবে আরও ফলপ্রসূ করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সকল মন্ত্রণালয়কে তিনটি ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু মন্ত্রণালয়কে নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রণালয় (লিড মিনিস্ট্রি), কয়েকটিকে সহনেতৃত্ব (কো-লিড) দানকারী এবং সহযোগী (এ্যাসোসিয়েট) মন্ত্রণালয় হিসেবে ভাগ করা হবে।

লিড মন্ত্রণালয়গুলো মূলত দেশে ও বিদেশের সঙ্গে সকল কার্যাবলী সরাসরি নেতৃত্ব দেবে। এদের সহনেতৃত্বদানকারী মন্ত্রণালয় হিসেবে কিছু মন্ত্রণালয় কাজ করবে। আর থাকবে কিছু সহযোগী মন্ত্রণালয়। এরা মূলত এই দুই ধরনের মন্ত্রণলয়কে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করবে।

সভায় বিডার (বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) উন্নয়ন সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা হয়। এতে মূলত বিনিয়োগের কৌশল বাড়ানোর কথা বলা হয়। বিনিয়োগ বাড়াতে কি করণীয় তা নিয়েও আলোচনা হয় সচিব সভা। দেশী-বিদেশী নিয়োগ বাড়াতে সেবাখাতকে আরও সহজীকরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। সে লক্ষ্যে কিছু আইন-কানুন, বিধি-বিধান সংশোধন করা প্রয়োজন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সচিবদের উদ্দেশে বলেন, এসডিজি অর্জনে আমলাদের ভূমিকা অনেক বেশি। আমরা সকলে আন্তরিক হলে এ কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। সকলে সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করবেন। দুর্নীতি পরিহার করবেন। দেশের প্রতি আমাদেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। সরকার চায় দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে। সে কাজ বাস্তবায়ন করা আমাদের বড় কাজ। তাই সকলকে তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে যার যার মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, সকল মন্ত্রণালয়ের সিটিজেন চার্টার্ড রয়েছে। এটা পুরোপুরি অনুসরণ করবেন। পাশাপাশি উদ্ভাবনী কাজেও মনোযোগ দিবেন। নতুন নতুন পরিকল্পনা তৈরি করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সকল মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। সচিব সভা দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়ে বিকেল পাঁচটায় শেষ হয়।

Views: 40