নারী বিনিয়োগকারী ৮ লাখ

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশের শেয়ারবাজারে নারী বিনিয়োগকারীর বিও অ্যাকাউন্ট ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৪৪০। পাঁচ বছর আগের তুলনায় যা ২৭ শতাংশ বেশি। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৬ লাখ ১২ হাজার। গতকাল পুরুষ বিনিয়োগকারীর বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ২১ লাখ ৪৮ হাজার। মোট বিও হিসাবে নারীর অংশ ২৭ শতাংশ। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান সিডিবিএল সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, নারীদের নামে খোলা বিও অ্যাকাউন্টের বড় অংশ পুরুষরাই পরিচালনা করেন। আইপিও শেয়ার কিনতে স্বামী, ভাই, বন্ধু, পরিচিত বা কোনো নারী আত্মীয়ের নামে বিও অ্যাকাউন্ট খোলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা পরিবার সদস্যদের মধ্যেও শেয়ার রাখেন। এ ধরনের নারী বিও হিসাবও উল্লেখযোগ্য।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল শেষে নারীদের বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ৬ লাখ ২৮ হাজার। ২০১৩ সাল শেষে ৭ লাখ ১৮ হাজার। পরবর্তী দু’বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৮ লাখ ৩৬ হাজার এবং ৮ লাখ ৬০ হাজার। তবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে তা কমে ৭ লাখ ৯৫ হাজার হয়।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, নারীকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছে কমিশন। এ জন্য প্রতি মাসেই নারী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনা মূল্যে বিশেষ বিনিয়োগ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে নতুন নারী বিনিয়োগকারী সৃষ্টি হচ্ছে। দেশব্যাপী নারী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও রয়েছে বিএসইসির। আর্থিক শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গৃহিণীদের বিনিয়োগ শিক্ষা দেওয়া হবে।

ঢাকার নারী বিনিয়োগকারী আকলিমা আক্তার জানান, গত আট বছর ধরে শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন। তিনি বলেন, কেউ কোনো শেয়ার কিনতে বললেই কিনি না। কেন দর বাড়বে, তা বোঝার চেষ্টা করি। তবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে পুরুষরা বেশি সুযোগ পান বলে মনে করেন আকলিমা।