সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন মর্জিনা

কৃষিপ্রযুক্তি কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন নারীকৃষক মর্জিনা বেগম। মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের চুহড় গ্রামে তার বাড়ি। তিনি সংসারের খরচ থেকে টাকা জমিয়ে ৪ একর জমি বন্ধক নিয়ে সংসারের অভাব-অনটন মিটিয়েছেন। ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান মর্জিনা বেগমের বিয়ে হয় ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি। স্বামী হামিদুর রহমান ওই সময় স্বল্প বেতনভুক্ত একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বিবাহিত জীবনে যৌথ পরিবারে বসবাস করা অবস্থায় তাদের সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। মর্জিনা সংসারের খরচ থেকে টাকা জমিয়ে ১৯৯৮ সালে চুহড় এলাকায় ৪ একর জমি বন্ধক নিয়ে কৃষির বহুমুখী উৎপাদনে অংশ নেন। সেই সঙ্গে তিনি সমাজ উন্নয়নমূলক কাজসহ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

তিনি গত বছর নিজের অভিজ্ঞতা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রযুক্তি সহায়তা নিয়ে প্রতি হেক্টরে ৩২ টন আলু, বাংলামতী বোরো ধান (ব্রি ধান-৫০) হেক্টরপ্রতি ৬.৫ টন, ভুট্টা হাইব্রিড জাত হেক্টরপ্রতি ১০ টন ফসল ঘরে তোলেন। এ ছাড়া লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শশা জৈব পদ্ধতির মাধ্যমে অধিক উৎপাদনে এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগান। তিনি নিজে ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) খামার স্থাপন করে এলাকার নারীদের দলে দলে উদ্বুদ্ধ করেন।

মর্জিনা বেগম বলেন, ‘স্বামী অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিদুর রহমানের অনুপ্রেরণায় আমি কৃষি কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত হই। এক সময় পরিবারে অভাব-অনটন ছিল। বর্তমানে আমরা সুখী। সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে কোনো অসুবিধা হয় না। সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, মর্জিনা বেগম কৃষিক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছেন। তিনি কৃষিপ্রযুক্তি গ্রহণ করে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে নারীদের মধ্যে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।