বাঙ্গি চাষে স্বপ্ন বুনন

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের সুতারকান্দি গ্রামে প্রায় ৫০ একর জমিতে আগাম জাতের ফুট (বাঙ্গি) চাষ করেছেন কৃষক। তারা অধিক লাভের আশায় স্বপ্ন বুনছেন। এখানকার চাষিরা কার্তিক মাস থেকে ফুটবিজ রোপণ করা শুরু করেন। ফল ধরতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ মাস। ৪ মাস পর ফাল্গুনের শুরুতে ফুট তোলা শুরু হয়।
এখানকার চাষি মোঃ ইব্রাহীমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এখানে প্রতি বিঘা জমিতে তাদের খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। এজন্য ভালো ফলন ফলাতে জমিতে তিনবার পানি, ডিআইবি, টিএসপি ও পটাশ সার, পোকামাকড় মারার জন্য কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের সুতারকান্দি গ্রামের এসকেন বেপারি ও তার ছেলে সুরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগের তুলনায় এ বছর ফুটের ফলন অনেক ভালো এবং আকারে বড় হয়েছে। এ বছর তুলনামূলক দাম বেশি পাবেন বলে আশা করছেন। চাষি কামাল ফকির ও বজলু হাওলাদার বলেন, আমাদের এখানে প্রতিদিন ১০০ শ্রমিক কাজ করেন। তারা এখান থেকে যে টাকা আয় করেন, তা দিয়েই তাদের পরিবার ও ছেলেমেয়ের স্কুলে লেখাপড়ার খরচ চলে। এলাকার কৃষক শাহাদাতের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি থেকে ফুট নিয়ে তারা মাথায় করে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কামালদি ব্রিজ-সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে ছোট একটি মাঠে নিয়ে রাখেন। কখনও মহাসড়কের পাশে ঝাঁকায় সাজিয়ে বিক্রি করেন। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা ফুট কিনতে এখানে আসেন। আমরা তাদের কাছে পাইকারি বিক্রি করি। তারা আমাদের এ ফুট বিভিন্ন স্থানে নিয়ে খুচরা বিক্রি করেন। টেকেরহাটের ক্রেতা খোকন শেখ বলেন, প্রতিদিন সকালে আমরা ফুট কিনতে এখানে আসি। এখানকার ফুট নিয়ে আমরা টেকেরহাট বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে থাকি। জানা গেছে, এ ফুট কিনতে ক্রেতারা পিকআপ ভ্যান, অটোভ্যান, নসিমন নিয়ে আসেন। তারা এগুলো রাজৈর, টেকেরহাট, জলিরপাড়, বানিয়ারচর, বনগ্রাম, বাটিকামারী, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ, ভাঙ্গা ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। কৃষক নুর ইসলাম খালাসি জানান, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে সারা দিন গাড়ি থামিয়ে চালক ও যাত্রীরা এ ফুট কিনে নিয়ে যান। এখানকার মানুষ অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। ফুট চাষে অনেকের অভাব দূর হয়েছে। তাদের বাড়িতে এখন পাকা ঘর হয়েছে। এক কথায় ফুট চাষে এ অঞ্চলের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছেন।