দেশে প্রথম স্বয়ংক্রিয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ

ময়মনসিংহ নগরীর চরখরিচা গ্রামে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক স্বয়ংক্রিয় গম্বুজের মসজিদ। দুই’শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য মনোরম, দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদের নাম রাখা হয়েছে মদিনা মসজিদ। মসজিদের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর গত শুক্রবার প্রথম জুম্মার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে এ মসজিদটি। দেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম মজলিসে দাওয়াতুল হকের আমির আল্লামা মাহমুদুল হাসানের ইমামতিতে এ নামাজে প্রায় হাজার হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

 

বৈদ্যুতিক স্বয়ংক্রিয় গম্বুজের এ মসজিদ বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। সুইচ অন করলেই সরে যাবে এর গম্বুজ। তখন মসজিদের ভেতর থেকে দেখা যাবে আকাশ। এলাকাবাসীর ধারণা, সৌন্দর্য ও নান্দনিকতার দিক থেকে মসজিদটি ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে। ২০১১ সালে এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চার তলা বিশিষ্ট মসজিদের ভেতরে কাতার হবে ১৯টি। প্রতি কাতারে ১১০ জন করে ২ হাজার ৯০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবে। মসজিদে রয়েছে পাঁচটি গম্বুজ। এর মধ্যে চারটি স্থির এবং একটি বৈদ্যুতিক গম্বুজ। উঁচু মিনার রয়েছে দু’টি। এ মিনারের উচ্চতা চার তলা ভবনের উপর থেকে ১৬০ ফুট। মসজিদের কারুকাজে ব্যবহূত হয়েছে মারবেল পাথর আর কাঠ। কাঠগুলো আনা হয়েছে মিয়ানমার থেকে। ছয় দরজা বিশিষ্ট এ মসজিদে মুসল্লিদের উঠা-নামার জন্য একটি চলন্ত সিঁড়িসহ মোট পাঁচটি সিঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে।

 

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অনন্য দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের উদ্যোক্তা মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমির, জামিয়া মাহমুদিয়া  আরবিয়া ইসলামিয়ার মহাপরিচালক আল্লামা মাহমুদুল হাসান। তিনি তার জন্মস্থান চরখরিচার নিজ বাড়িতে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। মসজিদের পাশে নিজ নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি কওমি মাদ্রাসা। মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে আল্লামা মাহমুদুল হাসান বলেন, মসজিদ মহান রাব্বুল আলামিনের ঘর। অথচ আল্লাহর ঘরকে সুন্দর করার দিকে আমরা মনোযোগী হই না। এটা ঠিক না। আল্লাহ আমার এই মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করিয়েছেন। এর পেছনে অগণিত মুসলমান ধর্মপ্রাণ মানুষের অর্থ শ্রম ঘাম রয়েছে।

 

এদিকে মসজিদের প্রথম জুম্মার নামাজ আদায়ের পূর্বে এক মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সৌদি আরবের হযরত আওলাদে রাসূল আল্লামা শাইখ সৈয়দ নাসির বিল্লাহ মক্কী, মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান, মুফতি আহাম্মদ আলীসহ দেশ-বিদেশের আলেম উলামাগণ। প্রথম দিনের জুম্মার নামাজ ও আলোচনা সভায় লক্ষাধিক লোক অংশগ্রহণ করেন। এতে আয়োজন ও আপ্যায়ন বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা।

 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম একটি ব্যতিক্রমধর্মী মসজিদ নির্মাণ করায় উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন। তিনি বলেন, আল্লাহর জমিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ সময় তিনি দুই লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন।