সৌরচালিত আলোক ফাঁদ উদ্ভাবন করেছে ব্রি

পরিবেশবান্ধব কীটপতঙ্গ শনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ ও দমনে সৌরচালিত আলোক ফাঁদ উদ্ভাবন করেছে গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এটি ব্যবহার করে শস্যের ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন করা যাবে। প্রচলিত পদ্ধতিতে হ্যারিকেন, হ্যাজাক লাইট অথবা বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করে আলোক ফাঁদ তৈরি করা হয়। এই আলোক ফাঁদ প্রতিদিন সন্ধ্যায় জ্বালিয়ে সকালে বন্ধ করতে হয়। এ অবস্থায় ব্রি-র এফএমপিএইচটি ও কীটতত্ত্ব বিভাগ যৌথভাবে ফসলের মাঠে ব্যবহার উপযোগী সৌরশক্তি চালিত একটি নতুন আলোক ফাঁদ উদ্ভাবন করেছে।
ব্রি-র গণসংযোগ বিভাগ জানায়, আলোক ফাঁদ একটি জনপ্রিয়, সহজ, পরিবেশ বান্ধব কীটপতঙ্গ শনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ ও দমন পদ্ধতি। জনপ্রিয় ও সহজ এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করে শস্যের ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন করা যায়। তা মাথায় রেখে কৃষকদের সুবিধার্থে ফসলের মাঠে ব্যবহার উপযোগী সৌরশক্তি চালিত একটি নতুন আধুনিক আলোক ফাঁদ উদ্ভাবন করেছে। উদ্ভাবিত যন্ত্রটি মাঠে একবার স্থাপন করলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সূর্যের আলোর অনুপস্থিতিতে জ্বলে এবং সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে নেভে। প্রযুক্তিটি একটি সৌর প্যানেল, একটি ব্যাটারি, একটি কন্ট্রোলার, একটি বৈদ্যুতিক বাতি এবং কেরোসিন মিশ্রিত পানির পাত্র ও একটি স্ট্যান্ডের সমন্বয়ে তৈরি। যার আনুমানিক মূল্য ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ যন্ত্রে ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক বাল্বের জীবনকাল দু’বছর এবং সৌর প্যানেলের মেয়াদ ২০ বছর। প্রযুক্তিটি দেশব্যাপী সমপ্রসারণ করা গেলে ফসলের মাঠে পোকা দমন করা সহজ হবে। যার ফলে এক দিকে ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমবে এবং পরিবেশ থাকবে নির্মল। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। নতুন আলোক ফাঁদ প্রযুক্তিটি ফসলের মাঠের পাশাপাশি ধান-মাছের মিশ্রচাষে ও পুকুরে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এই ফাঁদ পুকুরে ব্যবহার করলে ফাঁদে আকৃষ্ট পোকামাকড় মাছ সরাসরি সম্পূরক খাবার হিসাবে খেতে পারবে।
এর আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধানের ক্ষেতের আইলে কোথাও পানিভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজে আলো জ্বেলে, হারিকেন, হ্যাজেক লাইট, বৈদ্যুতিক বাল্ব কিংবা নানাভাবে আলো জালিয়ে ধানে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন পোকা নিধন করেছেন কৃষকেরা। এই আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে অনেক কৃষক বর্তমানে খুব কম কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এতে কৃষকদের খরচ অনেকটাই কমে আসছে এবং ধানের উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সৌরচালিত আলোক ফাঁদ কৃষকদের আরো বেশি উপকারে আসবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীগণ।