পোল্ট্রি প্রসেসড ফুড রপ্তানি করবে বাংলাদেশ

২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের পোল্ট্রি প্রসেসড পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার (ওয়াপসা-বিবি) সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রবেশ করতে হলে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। তাই সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
গতকাল বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে তিন দিনব্যাপী ১০ম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা জানানো হয়। পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার (ওয়াপসা-বিবি) সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে ওয়াপসা বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল হক, পোল্ট্রি মেলার আহ্বায়ক মসিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।
শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, হালাল মার্কেটে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প। এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলে প্রাথমিক পর্যায়ে বছরে অন্তত ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে ভুট্টাসহ পোল্ট্রি ফিডে ব্যবহৃত বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি), সয়াবিনের ওপর থেকে ১০ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ওষুধের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক এবং ডিডিজিএসের ওপর থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট তুলে নেয়ার অনুরোধ জানান।
ওয়াপসা বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল হক বলেন, এবারের মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খামারি এবং উদ্যোক্তারা এসেছেন। যে পরিমাণ সাড়া পাওয়া গেছে তা অভূতপূর্ব। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষের মাঝেও পোল্ট্রি মেলাকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী এবারের মেলা পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, এবারের মেলায় বেশকিছু নতুন প্রযুক্তির দেখা মিলেছে যা বাংলাদেশে পোল্ট্রির উৎকর্ষতা সাধনে সহায়ক হবে। পোল্ট্রি মেলা দু’বছর পরপর না করে প্রতি বছর আয়োজনের অনুরোধ এসেছে বলেও জানান তিনি।
পোল্ট্রি মেলার আহ্বায়ক মসিউর রহমান বলেন, সায়েন্টিফিক সেশনগুলোতে পোল্ট্রি রোগ-বালাই এবং চিকিৎসার নতুন নতুন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে যা পোল্ট্রি স্বাস্থ্যের উন্নয়নে খুবই সহায়ক হবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব পোল্ট্রি শিল্পেও পড়তে শুরু করেছে। কাজেই আগামীতে এ নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তিন দিনব্যাপী মেলা ৫০ হাজার দর্শনার্থী আর ২০ দেশের অংশগ্রহণে শেষ হলো। আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি মেলায় এবার বেস্ট স্টল হিসেবে প্রথম পুরস্কার পায় এভন এনিম্যাল হেলথ। যুগ্মভাবে দ্বিতীয় পুরস্কার পায় চিকস অ্যান্ড ফিডস ও রেনাটা লিমিটেড এবং তৃতীয় পুরস্কার পায় প্যারাগন গ্রুপ ও বেঙ্গল ওভারসিজ লিমিটেড। মেলার দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ২০ জন শিশু পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া ‘ওয়াপসা নাইট’ -এ নৃত্য পরিবেশন করে মডেল তারকা ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ ও তার দল।