বন্যহাতি তাড়াতে স্থাপিত সোলার পাওয়ারের সুফল পাচ্ছে গ্রামবাসী

ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের সীমান্তে স্থাপনকৃত সোলার পাওয়ারের সুফল ভোগ করছে গারো পাহাড়বাসীরা। গত প্রায় ২ যুগ ধরে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামবাসীরা বন্যহাতির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। উপর্যুপরি বন্যহাতির তাণ্ডবে জানমাল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গ্রামবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতে বন্যহাতির কবল থেকে গ্রামবাসীদের রক্ষার্থে গত আগস্ট মাসে উপজেলার সীমান্তে হাতি কবলিত পাহাড়ি গ্রামগুলোতে সোলার পাওয়ার্ড স্থাপনের কাজ শুরু হয়। উপজেলার গারো পাহাড়ের ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সরকার এ সোলার পাওয়ার স্থাপন কাজ হাতে নেয়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থে পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে এর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে  প্রায় ৮০ লাখ টাকা। ইতোমধ্যেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বন-বিভাগের তদারকিতে এ কাজটি সম্পন্ন হয়।

 

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোবীন্দ রায় বলেন, ১৩ কিলোমিটার এলাকায় মোট ৬টি ছোট জোনে বিভক্ত করে প্রতিটি জোনে একটি করে সোলার ফেসিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। সোলার জোনে একটি করে উচ্চ বিভব উত্পন্নকারী যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ সোলার পাওয়ার স্থাপনের ফলে বন্যহাতি এসব এলাকায় প্রবেশ করতে বাধাগ্রস্ত হবে। এতে বন্যহাতি ও মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে। ১৯৯৬ সাল থেকে সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় বন্যহাতির তাণ্ডব শুরু হয়। পাহাড়ি গ্রামবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আলহাজ একেএম ফজলুল হক এ পাইলট প্রকল্প প্রণয়নের কাজটি হাতে নেন। গুরুচরণ দুধনই ৪.৫ কিলোমিটার, ছোট গজনী ৩ কিলোমিটার, বড় গজনী-হালচাটি ৩.৫ কিলোমিটার এবং নালিতাবাড়ীর মায়াগাছীতে ২ কিলোমিটার এলাকারজুড়ে এ সোলার পাওয়ার্ড নির্মাণ কাজ করা হয়।

 

কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হক, ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেস খকশী বলেন, পাহাড়বাসীদের মধ্যে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাদের দাবি পুরো সীমান্ত এলাকায় সোলার পাওয়ার স্থাপন করা হলে গারো পাহাড়ে চাষাবাদ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার কৃষকরা নির্বিঘ্নে  বসবাস করতে পারবে।

 

সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আলহাজ একেএম ফজলুল হক বলেন, স্থাপনকৃত সোলার পাওয়ার্ডের সফলতা পাওয়ার পর পুরো গারো পাহাড়ে সোলার পাওয়ার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আরো ১ কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাস পাওয়া গেছে।