বিলাসী বেগুন চাষ করে লাখোপতি

বিলাসী বেগুন চাষ করে লাখোপতিমো. জিল্লুর রহমান, মঠবাড়িয়া: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার উত্তর সোনাখালী গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কৃষক মো. জয়নাল আবেদীন জমাদ্দার। দেশি জাতের উন্নত বেগুন চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন তিনি। বেগুন বিক্রি করে এখন তিনি লাখোপতি। এক একর পতিত জমিতে বিলাসী বেগুন চাষ করে নিজের দারিদ্র্য ঘুচিয়েছেন তিনি।
কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে এক একর জমিতে ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনি দেশি উন্নত জাতের বেগুন থোক বিলাসী আবাদ করেন। সারাবছরই ফলে এই বেগুন। ফলনও হয় থোকায় থোকায়। বাজারে চাহিদাও প্রচুর। এই বেগুন বিক্রি করে তিনি বছরে আয় করেছেন তিন লাখ টাকা। এ ছাড়া বেগুন ক্ষেতে মৌসুমে ক্ষীরাই আবাদ করে আয় করেন আরও ৫০ হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান, সপ্তাহে দু’বার ক্ষেত থেকে ২০-২২ মণ বেগুন সংগ্রহ করেন তিনি। এবার মৌসুমের শুরুতে ৮০০ টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি করেছেন। পাইকাররা বাড়িতে এসেই তার বেগুন কিনে নেন। বর্তমানে সাড়ে ৫০০-৬০০ টাকা মণ দরে
বেগুন বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বেগুন আবাদের সফলতা দেখে এলাকার আরও কয়েক কৃষক আমার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করেছেন।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়ার সোনাখালী কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. হেমায়েতউদ্দিন জানান, পতিত জমিতে যে কেউ থোক বিলাসী জাতের বেগুনের আবাদ করে জয়নালের মতো লাভবান হতে পারেন। বেগুনের আবাদ দিয়ে এই কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, মঠবাড়িয়ার মাটি ও আবহাওয়া থোক বিলাসী বেগুন চাষের অনুকূল। পতিত জমিতে এর আবাদ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট (পিজিবি) প্রকল্পের মাধ্যমে থোক বিলাসী বেগুনের প্রদর্শনী প্লট করে স্থানীয় চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।