শখের তৈরি মোড়ায় ব্যবসা

বরিশালের আগৈলঝাড়ার শিহিপাশা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল মান্নান সরদারের শখের তৈরি মোড়া এখন ব্যবসা সফল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরে অর্ধশত মোড়া বিক্রি করে অর্ধ লাখ টাকা ব্যবসা করছেন। সংসারে অভাব না থাকলেও শখের মোড়ায় বাড়তি আয় সংসারে স্বচ্ছলতা আসায় মোড়া তৈরি এখন তার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তার ব্যবসায় হতদরিদ্র মানুষগুলোকে সম্পৃক্ত করে বড় ধরনের প্রজেক্ট দাঁড় করানোর ইচ্ছে রয়েছে মান্নানের।
মান্নান জানান, ১৯৯৮ সালে খাগড়াছড়িতে চাকরিরত অবস্থায় ওই এলাকার চাকমাদের কাছ থেকে সুদৃশ্য মোড়া তৈরির কাজ তিনি রপ্ত করেন। রপ্ত করেই খ্যান্ত হননি। মাঝে মধ্যে চাকমাদের সঙ্গে মোড়া তৈরিও করেছেন। এতে করে মোড়া তৈরিতে বেশ পাকা হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তার ইচ্ছা ছিল বাড়িতে গিয়ে অবসর সময় মোড়া তৈরি করার। যা নিজের সংসারে ব্যবহারসহ আত্মীয়স্বজনকে উপহার দেবেন। এ কারণে মোড়া তৈরিতে যে সব কাঁচামাল ব্যবহার করা হয় সে বিষয়েও জ্ঞান নেন।
২০০৩ সালে অবসর গ্রহণের পর শখ এবং সময় কাটাতে বাড়িতে এসে মোড়া তৈরির সিদ্ধান্ত নেন মান্নান। আর মোড়াটি যাতে টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী হয় সে বিষয়টি মাথায় রেখে কাঁচামাল সংগ্রহ শুরু করেন। এরপর পাকা তল্লাবাঁশ কেটে পানিতে কয়েক মাস ভিজিয়ে রাখেন। পরে ওই বাঁশ থেকে শলা তৈরি করে আগুনে সেকে তেল মেখে রোদে শুকান। শুকানো শলা দিয়ে মোড়া তৈরির জন্য লোহার তিনটি রিং ও বাঁশের চারটি চাক তৈরি করেন। রিং ও চাক বসিয়ে তার বাইেের বিশেষ ব্যবস্থায় বাঁশের শলা দিয়ে তার ওপর নাইলন সুতা ও প্লাস্টিক ক্যান দিয়ে মোড়া তৈরির কাজ শুরু করেন। একটি মোড়া তৈরিতে তার ১২ থেকে ১৪ দিন সময় লেগে যায়। ধীরে ধীরে কাজের গতি বাড়তে থাকলে মাসে ৩ থেকে ৪টি পর্যন্ত মোড়া তৈরি করতে সক্ষম হন মান্নান।
আর তার বাসায় ওই মোড়ার ব্যবহার দেখে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা ক্রয়ের ইচ্ছা পোষণ করেন। মান্নানের একটি মোড়া তৈরিতে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। ওই মোড়া তিনি আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি শুরু করেন। এভাবে তার মোড়া আগৈলঝাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ কিনে নেন। এমনকি বিদেশ থেকে দেশে এসে তার তৈরি মোড়া নিয়ে যান বাইেের। দিন দিন তার মোড়ার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তিনি শুধু একা এ কাজে সময় দেয়ায় বছরে অর্ধশত মোড়া তৈরি করা তার পক্ষে সম্ভব হয়। আর ওই অর্ধশত মোড়া থেকে তার অর্ধ লাখ টাকা ব্যবসা হয়। কিন্তু চাহিদা রয়েছে চার গুণেরও বেশি।
মান্নান আরো জানান, তার মোড়া দেখতে সুদৃশ্য ও দীর্ঘস্থায়ী। এই মোড়ার স্থায়িত্ব প্রায় ৩০ বছর। মান্নানের ইচ্ছা রয়েছে মোড়া তৈরির বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণের। এতে করে এলাকার হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তার আয়ের পথও আরো প্রসারিত হবে। যা মানুষকে মোড়া তৈরিতে আগ্রহী করে তুলবে।