মহিষ ও ভেড়ার মাংসের ব্যাপক সম্ভাবনা

মহিষের মাংসে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে। ভেড়ার মাংসও সুস্বাদু। রাজধানীর বাজারে রাতে মহিষ ও ভেড়া জবাই হলেও দিনে তা গরু ও ছাগলের বলে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ জেনেশুনেই আমাদের বেশি বেশি মহিষ ও ভেড়ার মাংস খাওয়া উচিত। সাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে দেশে মহিষ ও ভেড়ার মাংসের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিলে নিরাপদ ও পুষ্টিকর মাংসের চাহিদা পূরণে মহিষ ও ভেড়ার মাংস অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এমন অভিমত দিয়েছেন দেশের প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা। তারা বলছেন, মহিষের প্রতি আমাদের মায়া-মমতা বৃদ্ধি করা দরকার। মা মহিষ বাচ্চা দেয়ার তিন মাস পরেই পুনারয় গর্ভবতী হওয়ার সক্ষমতা রাখলেও কেবল অসেচতনার কারণে বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও সে আর গর্ভবতী হয় না। এক্ষেত্রে দেশের কৃষকদের আরও সচেতন হতে হবে। ভেড়ার দুধেও তুলনামূলকভাবে বেশি ভিটামিন থাকায় ভেড়া পালনেও উদ্বুুদ্ধ হতে হবে। রবিবার রাতে রাজধানীর খামারবাড়ি আ কা মু গিয়াস উদ্দিন মিল্কী মিলনায়তনে ‘বাংলা বাফেন (মহিষের মাংস) ও বাংলা ল্যাম্বের (ভেড়ার মাংস) বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এ সেমিনারের আয়োজন করে। মূল প্রবন্ধ পাঠকালে বাংলাদেশ প্রাণী গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খান শহীদুল হক বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর মাংসের যোগান দিতে মহিষ ও ভেড়ার মাংসের কোন বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়ন ও সপ্তম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যের মধ্য রয়েছে মহিষ ও ভেড়ার আর্থসামাজিক অবদান, মূল্য বৃদ্ধি ও নিরাপদ মাংস শিল্প।

তিনি বলেন, বিদেশী উন্নত জাত ব্যবহার করে সঙ্করায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশীয় মহিষের দুধ উৎপাদন এবং পুনরুৎপাদনজনিত কৌলিক মানোন্নয়ন করা হবে। সমাজভিত্তিক ও বাণিজ্যিক খামারে দেশী ভেড়ার উন্নয়ন ও সংরক্ষণের দিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) মহাপরিচালক ড. তালুকদার নূরুন্নাহার বলেন, রাতে ঢাকা শহরে মহিষ ও ভেড়া জবাই হচ্ছে, তবে দিনে তা হয়ে যাচ্ছে গরু ও ছাগল। মহিষের মাংসে প্রচুর ভিটামিন, ক্যালসিয়ামের পরিমাণও অত্যাধিক। আমরা না জেনে যে একটি খাবার খেয়ে উপকৃত হচ্ছি তা হচ্ছে মহিষের মাংস। আমরা চাই মহিষ ও ভেড়ার মাংস আরও জনপ্রিয় হোক। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হোক। তিনি বলেন, দেশে মাংসের চাহিদা পূরণে নানামুখী কাজ করে যাচ্ছে আমাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তবে উন্নত প্রযুক্তির দিকে আমাদের নজর বাড়াতে হবে। নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও সেগুলো মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের পশুবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোজাফফর হোসেন বলেন, গবাদিপশুর মাধ্যমে স্বনির্ভরতা তৈরি হতে পারে। তাই এ খাতে যারা আছি তাদের উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। প্রাণিসম্পদ খাতে বিনোয়োগ শূন্য থেকে অসীম হতে পারে। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের চিন্তা না করে শুরু করা উচিত। কৃষির সমস্ত ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদেই নারীর অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাকসুদুল হাসান খান বলেন, দেশে মাংসের চাহিদা পূরণে উন্নত জাতের দিকে আমাদের যেতে হবে। এক্ষেত্রে মহিষ ও ভেড়ার মাংস অনেক বড় সহায়ক হবে। যদি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে এ কাজ করা যায় তবে এর সফলতা পাওয়া যাবে।

পরে মহিষ ও ভেড়ার মাংস সম্পর্কে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য প্যানেল টেস্টের আয়োজন করা হয়। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এ প্যানেল টেস্টে অংশ নেন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।

প্যানেল টেস্টে খাওয়ার টেবিলে কথা বলতে বলতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছরীন সুলতানা জুয়েনা বলেন, আহা! মহিষের মাংস কত স্বাদ! অথচ কেবল অসচেতনার অভাবে রাতে মহিষ জবাই হলেও দিনে তা হয়ে যাচ্ছে গরু।