সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরিতে তরুণ ও নারীরা মুখ্য ভূমিকা পালন করছে

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল। সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে তরুণ ও নারীরা মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘স্টেট অব সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ সার্ভে’-তে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। সেই সঙ্গে দেশব্যাপী উদ্যোক্তা তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে কি কি পদক্ষেপ নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাও স্থান পেয়েছে এ সমীক্ষায়। উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে: সামাজিক উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে গতানুগতিক উদ্যোক্তাদের চেয়ে তরুণ ও নারীরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে; সামাজিক উদ্যোক্তা হয়ে থাকে তরুণ, বেশিরভাগ সামাজিক উদ্যোক্তার বয়স ছয় বছরেরও কম; প্রবৃদ্ধির জন্য সামাজিক উদ্যোক্তারা মুখিয়ে থাকে; বাংলাদেশে ৩২ শতাংশ সামাজিক উদ্যোক্তা সমালোচনামূলক দক্ষতার মতো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়ে থাকে।

রাজধানীর ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রধান কার্যালয়ে বুধবার শুরু হয়েছে ‘কোলাবোরেশন ফর ইমপ্যাক্ট’ শীর্ষক তৃতীয় বার্ষিক সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ফোরাম। যৌথ সহযোগিতায় এ ফোরামের আয়োজন করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প এবং বেটার স্টোরিজ, ডিনেট, ফিউচার স্টার্টআপ, এম পাওয়ার ও টিম ইঞ্জিনের মতো দেশজুড়ে সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী নানা প্রতিষ্ঠান।

এ ফোরামটি সামাজিক উদ্যোক্তা, পেশাদারদের উন্নয়ন, সামাজি বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য দুদিনব্যাপী পলিসি ডায়ালগ থেকে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়া এবং নিজেদের ধারণা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে একটি বিশাল সুযোগ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির কাজ গতিশীল হবে।

এ বছর ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাজ্যের ১শ’র বেশি নীতিনির্ধারক, সামাজিক উদ্যোক্তা ও সামাজিক বিনিয়োগকারী এবং অনুশীলনকারী এ পলিসি ডায়ালগে অংশ নিয়েছেন। পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া এবং যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারক, সামাজিক উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিখাতের উদ্যোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যকার নেটওয়ার্কের ধারাবাহিক মানোন্নয়ন ঘটাতে কাজ করবে এ ডায়ালগ। ডায়ালগে যুক্তরাজ্যের সামাজিক উদ্যোগ খাতে নীতিমালা ও সর্বোত্তম প্রয়োগ নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ইউকে’র প্রধান নির্বাহী পিটার হলব্রুক। প্রধান অতিথি হিসেবে সংলাপ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসক) ও এটুআই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) কবির বিন আনোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেপুটি ব্রিটিশ হাই কমিশনার ডেভিড এ্যাশলে এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের পরিচালক বারবারা উইকহ্যাম।

এ নিয়ে বারবারা উইকহ্যাম বলেন, ‘বিশ্বে সামাজিক উদ্যোগ খাতে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং এক্ষেত্রে এ সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। বর্তমানে অল্প পরিসরে হলেও ঢাকায় সামাজিক উদ্যোগের বিস্তার ঘটছে।