এসডিজি বাস্তবায়নে নতুন প্লাটফর্ম

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) নেতৃত্বে নতুন প্লাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত এ প্লাটফর্মের নাম দেয়া হয়েছে ‘পিপলস ভয়েস : স্ট্রেনদেনিং এসডিজি ইমপ্লিমেনটেশন ইন বাংলাদেশ।’ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্লাটফর্মটি উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। পিকেএসএফের সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির স্থায়ী সদস্য মো. আবদুল ওয়াদুদ, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম। মূল প্রবদ্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির উপ-মহাব্যবস্থাপক ড. জসিম উদ্দিন।
সেমিনারে জানানো হয়, পিকেএসএফ তিন কমিটিবিশিষ্ট এই প্লাটফর্ম তৈরি করেছে। এই কমিটিগুলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেবে এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিগুলোর পরামর্শক হিসেবে থাকবেন পিকেএসএফের সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। এ কমিটির মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়নে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন,আমাদের পথ হারানোর সম্ভাবনা নেই। লক্ষ্যমাত্রা ঠিক আছে। আমরা জানি কোথায় যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সামনে থেকে নেতৃত্বে দিচ্ছেন। দেশের সব ক্ষেত্রের মানুষই দেশের উন্নয়নে কাজ করছে। দেশের মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধি যেমন বেড়েছে, তেমনি চাহিদাও বেড়েছে। আমরা মানুষকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছি।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩০ সালের আগেই এসডিজির ১৭ গোলের মধ্যে ১৬টিই বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রাটি বৈশ্বিক সংকট। তাই এটি সম্মিলিতভাবেই সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, কাউকে পশ্চাতে ফেলে নয়, সবাইকে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেই এসডিজি বাস্তবায়ন করা হবে। আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের দেশের উন্নয়নে বিদেশী পরামর্শকের দরকার নেই। আমরাই ভালো উপদেষ্টা। কাউকে পেছনে ফেলে না দিয়ে সবাইকে নিয়েই এসডিজি অর্জন করতে হবে। আমরা একটি সফটওয়্যার উন্নয়নের চেষ্টা করছি, যাতে করে মন্ত্রী, এমপি ও সচিবরা ঘরে বসেই সবকিছু জানতে পারেন। ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের অভীষ্ট লক্ষ্য শুধু দারিদ্র্য বিমোচন নয় বরং দীর্ঘমেয়াদে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের সারিতে উন্নীত করা। এই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে উন্নয়নের দৃঢ় ভিত্তি লাভ করবে।