ভিশন ২০৫০: পর্যটনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

ভিশন ২০৫০: পর্যটনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাভিশন ২০৫০: পর্যটনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সাতজনের একজন ভ্রমণ করে অন্য দেশে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৯ দশমিক ৭ বিলিয়নে। এ থেকে অনুমান করা যায়, বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ তথা ৪ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মানুষ ঘুরে বেড়াবে দেশ থেকে দেশান্তরে। পর্যটন এখন আর্থসামাজিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, রফতানি আয় বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অন্যতম বাহক পর্যটন। গত ছয় দশকে পর্যটন খাতে নানা ধরনের উন্নতি লক্ষ করা গেছে। পাশাপাশি এর কলেবরও বেড়েছে। এরই মধ্যে পর্যটন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ ও দ্রুত বর্ধনশীল আর্থিক খাতে পরিণত হয়েছে। ইউনাইটেড নেশনস ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন (ইউএনডব্লিউটিও) প্রকাশিত ২০১৬ সালের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কীভাবে বৈশ্বিক পরিসরে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। তথ্যানুযায়ী ১৯৫০ সালে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২৫ মিলিয়ন। ১৯৮০ সালে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ২৭৮ মিলিয়ন। ২০০০ সালে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৬৭৪ মিলিয়ন। ২০১৫ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৬ মিলিয়নে। ফি বছর পর্যটক বেড়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালে এটি ১ হাজার ৮০০ মিলিয়নে দাঁড়াবে। মধ্যবিত্তের বর্তমান অবস্থার অবনমন না ঘটলে পর্যটকের সংখ্যা ২০ বছরের ব্যবধানে বেড়ে দাঁড়াবে ৪ হাজার ১৭২ মিলিয়নে।
বৈশ্বিক পরিসরে পর্যটন খাত থেকে আয় ১৯৫০ সালের ২ বিলিয়ন থেকে ১৯৮০ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪ বিলিয়ন ডলার। ২০০০ সালে এ আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা ইউএনডব্লিউটিওর তথ্যানুযায়ী ২০১৫ সালে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২৬০ বিলিয়ন ডলার। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে পর্যটন থেকে বৈশ্বিক আয় বেড়ে দাঁড়াবে ৪ হাজার ৭৬২ বিলিয়ন ডলার। মজার বিষয়, বিগত দিনগুলোয় ইউরোপে ভ্রমণকারীর সংখ্যা কমেছে। পক্ষান্তরে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পর্যটক আসার পরিমাণ বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপে পর্যটক আসার বাজার শেয়ার ৫০ দশমিক ৭ থেকে নেমে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশে ঠেকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপরীতে একই সময়ে এশিয়া অঞ্চলে পর্যটক আসার বাজার শেয়ার ২১ দশমিক ৭ থেকে বেড়ে ৫০ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়াবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। বাজার শেয়ারের মতো পর্যটন খাতের আয়েও নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ২০১০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে পর্যটন খাত থেকে ইউরোপের আয় ৪৪ দশমিক ২ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এর বিপরীতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে পর্যটক আসার হার ২০১০ সালের ২৭ দশমিক ১ থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। এ শতকের শেষ অর্ধাংশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পর্যটন খাত উন্নয়নের উপযুক্ত সময়কাল বলে চিহ্নিত হচ্ছে।
তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১২ সালে ভুটান (+৫৯.১%), শ্রীলংকা (+১৭.৫%) ও নেপালে (+৯.১%) পর্যটক আসার পরিমাণ বেড়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য আশাবাদী হওয়ার কারণ হতে পারে। এ অঞ্চলে আসা বেশির ভাগ পর্যটকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভারতে এ সময়ে সংশ্লিষ্ট খাতে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ২০১৪ সালে প্রকাশিত ইউএনডব্লিউটিও ট্যুরিজম হাইলাটসে ২০১২ সাল নাগাদ বাংলাদেশে পর্যটক আগমনের হ্রাস-বৃদ্ধির কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। ইউএনডব্লিউটিওর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল নাগাদ এশিয়ার দেশগুলোয় পর্যটক আগমনের অবস্থান নিচের টেবিলে লক্ষ করা যায়।
উল্লিখিত তথ্য-উপাত্ত থেকে ধারণা করা যায়, ২০৫০ সাল নাগাদ পর্যটন খাতে দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থান কেমন হবে। বর্তমানে পর্যটন গন্তব্য, অবকাঠামো নির্মাণসহ অন্যান্য পরিকল্পনা প্রণয়নে তরুণদের কথা বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় মোট জনসংখ্যার সিংহভাগই তরুণ। ২০০৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে ২৫ বছরের নিচে থাকা তরুণের সংখ্যা প্রায় ৫২ শতাংশ, অন্যদিকে বিশ্বের জনসংখ্যা ১ শতাংশ হারে বাড়ছে। ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ জনসংখ্যার দিক থেকে চীনকে অতিক্রম করে যাবে ভারত। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এ ধারায় ২০৫০ সাল নাগাদ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যৌবন থেকে বার্ধক্যে উপনীত হবে। সাধারণত বয়স্ক মানুষের সঞ্চয় থাকে বেশি এবং তারা অর্থ ব্যয়ও করেন বেশি। আর এ কারণেই ২০৫০ সাল নাগাদ নিবিড় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের পাশাপাশি অবসর যাপন, বিনোদন, তীর্থযাত্রা ও পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। ফলে ২০৫০ সালের পর্যটনকে বয়স্কদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সাজাতে হবে।
ইউএনডব্লিউটিও বলছে, ২০১৫ সালে বিশ্বের পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পর্যটন স্থানে ভ্রমণ করেছে। জাতিসংঘের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ১০৭ জন মানুষ গ্রাম থেকে নগরে আসছে। এ হিসাবে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ নগরে বসবাস করবে। ২০৩০ সালে নগরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে পাঁচ বিলিয়ন এবং ২০৫০ সালে তা বেড়ে হবে ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন। তখন এ নগরগুলোই পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। এক্ষেত্রে নগর উন্নয়ন ও সুসজ্জিতকরণও পর্যটনের আওতাভুক্ত হতে পারে।
এশিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মানুষের কাছে নিকট দেশের শহরগুলো জনপ্রিয় ভ্রমণস্থল হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা খুব বেশি। ইতালির পিসায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল মনিটর সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে বিস্তর বলেছেন। আমাদের দেশেও গ্রামের বিপরীতে শহুরে মানুষের অনুপাত ২০১৬ সালের হিসাবে ছিল ৭০: ৩০, যা ২০৫০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ৫৬: ৪৪-এ।
টেকসই পর্যটন খাতের বিকাশে সর্বাগ্রে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে দৃষ্টি দিতে হবে শহরে বসবাসকারীদের কোন এলাকায় ভ্রমণ বেশ জনপ্রিয়। তবে ওইসব এলাকায় আগে থেকে বসবাসকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে পর্যটনকে উত্সাহিত করা ঠিক পদক্ষেপ হবে না। বিশ্বের যেসব দেশ পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছে, তারাই সফলতার মুখ দেখেছে। কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয়রা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি শিল্প হিসেবে পর্যটনের বিকাশও টেকসই হবে। কারণ স্থানীয় জনগণ পর্যটন থেকে প্রাপ্ত আয় বাড়াতে পারলে তারাই সেখানকার পর্যটন সম্পদ টেকসই করার উদ্যোগ নেবে।
বর্তমানে অধিকাংশ পর্যটন স্থানের যাবতীয় তথ্য ও সেখানে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা নানা শ্রেণী-পেশার পর্যটকের কাছে পৌঁছে দেয়ায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে তথ্য-প্রযুক্তি। ২০৫০ সাল নাগাদ ইন্টারনেটের ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের সব পর্যটন স্থানের তথ্য বিশ্ববাসীর হাতে চলে আসবে। ফলে তথ্যপ্রবাহ দ্বিগুণ গতি পাবে। স্মার্টফোন ও বাজারে আসা নতুন ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আরো অবারিত করবে। পুরো বিশ্বের তথ্যাদি ডিজিটালে রূপান্তর হলে মানুষ সহজেই তার গন্তব্য নির্ধারণ করতে পারবে। উড়োজাহাজের টিকিট কেনা, হোটেলকক্ষ-গাড়ি ভাড়া প্রভৃতি কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজেই সম্পন্ন করা যাবে। এ সুবিধার কারণেই ম্যানুয়াল পদ্ধতির চেয়ে অনলাইন মাধ্যম এখন অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
চীনের অর্থনীতিতে ছন্দপতনের পরও ২০১৫ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে পর্যটন খাতে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণপূর্বক ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৬ সাালে এ প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। এখান থেকে হিসাব করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৫০ সাল নাগাদ পর্যটন খাতের প্রবৃদ্ধি আরো বাড়বে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পর্যটক আকর্ষণে ভিসাপ্রাপ্তি, কর ও শুল্কায়ন, এভিয়েশনসহ ভ্রমণ-সহায়ক নীতি গ্রহণ করছে। পর্যটকরা যাতে সহজেই ভিসা পায়, তারও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এটাকেই বলা হচ্ছে ‘ওপেননেস’। এশিয়ার উদ্যোগের ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোও পর্যটক আকর্ষণে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাইরের দেশ থেকে আসা পর্যটকদের সুবিধাকে অনেক গুরুত্ব দেয়ায় অধিকাংশ মানুষ ভ্রমণ পছন্দের তালিকায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে স্থান দিচ্ছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভ্রমণে বিশ্বের ২৩ শতাংশ এলাকার জনগণের কোনো ধরনের ভিসা লাগছে না। তারা সংশ্লিষ্ট দেশে আসার পর ভিসা নিচ্ছে। এর বাইরে ৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে ই-ভিসা নিচ্ছে।
কেউ কেউ অবশ্য মনে করছেন, ২০৫০ সাল নাগাদ মধ্যবিত্তের বর্তমান অবস্থা ধস নামার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের ভ্রমণের আগ্রহ কমে যাবে। তথ্য-উপাত্ত বলছে, ভ্রমণে মধ্যবিত্তের আগ্রহ বেশি। পরিস্থিতির শিকার হয়ে তারা ভ্রমণ কমিয়ে দিলে পর্যটন খাতের উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে। তবে এ যুক্তির পেছনে শক্ত কার্যকারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশের পর্যটন বিকাশে অনেক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও বয়স্কদের বিবেচনায় রেখে এ অঞ্চলের পরিকল্পনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাদের পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করতে গেলে সবার আগে মেডিকেল ও হেলথ ট্যুরিজমকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বয়স্করা বেড়াতে এসে যেন পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও যথাযথ বিনোদনের সুবিধা পান, সেটাও খেয়াল রাখা জরুরি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করা যাবে। পাবলিক-প্রাইভেট কমিউনিটি পার্টনারশিপ গড়ে তোলা গেলে এ অঞ্চলকে পর্যটক আকর্ষণের উপযোগী করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে মালদ্বীপের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এরই মধ্যে দেশটির সরকার বুঝেছে, পর্যটনই হতে পারে তাদের উন্নতির মূল চাবিকাঠি। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সরকারের উচিত দ্রুততার সঙ্গে পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া। আমাদের দেশের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট কমিউনিটি পার্টনারশিপ একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি পর্যটন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে পর্যটন খাত বেকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দারিদ্র্য দূরীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যটনের মাধ্যমে প্রতিবেশ উন্নয়নের গতিও বেগবান করা যায়। আশার কথা হলো, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে পর্যটনের গুরুত্ব অনুধাবন করতে শুরু করেছে। বর্তমানে পর্যটনকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যবসা যেমন— বিমান, জাহাজ, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, ফিন্যান্স কোম্পানি, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, কার রেন্টাল ফার্ম, ক্যাটেরার ও রিটেইল এস্টাবলিশমেন্ট গড়ে উঠছে। দেশের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক উত্কর্ষ সাধনেও এসব কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখছে। পর্যটন খাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে না— এটি যেমন সত্য, তেমনি এও সত্য, যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হলে এ খাত থেকে প্রাপ্ত আয় আরো বাড়বে। এক্ষেত্রে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের সেবার মান বাড়ানোর বিকল্প নেই। এজন্য বাংলাদেশকে সৃষ্টিশীল ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, চেম্বার অব কমার্স, ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি— সবার আরো সক্রিয়তা প্রয়োজন।

লেখক: অধ্যাপক
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়