সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিতে গোপালগঞ্জ বাগেরহাটে প্রকল্প

গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট পৌরসভায় পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন উন্নয়নে ১৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই পৌরসভার প্রায় দুই লাখ বাসিন্দার দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সমস্যার সমাধান হবে। এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণ শেষে আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (্একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। অনুমোদন পেলে ২০১৯ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর (ডিপিএইচই)।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সমগ্র দেশে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ধিত জনসংখ্যার কারণে পরিবেশগত স্যানিটেশন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিস্কাশনের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরাপদ পানি সরবরাহের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের ভিশন-২১-এর অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুরাতন মধুমতি নদীর তীরে গোপালগঞ্জ। জেলার প্রাণকেন্দ্র গোপালগঞ্জ পৌরসভার আয়তন ১৩ দশমিক ৮২ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার। চাহিদার তুলনায় এ শহরে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। গোপালগঞ্জ পৌরসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জিমনেসিয়াম, মেডিক্যাল কলেজ, পাওয়ার স্টেশন, সুইমিং পুল, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, ডেন্টাল কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ইত্যাদি স্থাপনা এবং মাস্টার প্ল্যান মোতাবেক এ শহরের আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে এ শহরের পানির দৈনিক মোট চাহিদা ১ কোটি লিটার। পৌরসভার মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয় ৪০ লাখ লিটার। গোপালগঞ্জ শহরে বর্তমানে নিরাপদ পানি চাহিদার মোট ৪০ শতাংশ পানি পাইপ নেটওয়ার্কের আওতায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ শহরে নিরাপদ পানি সরবরাহের কভারেজ হবে ৯০ শতাংশ।

অপরদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুরাতন মধুমতি ও ভৈরব নদের তীরে বাগেরহাট জেলা অবস্থিত। জেলার প্রাণকেন্দ্র বাগেরহাট পৌরসভার আয়তন ৮ দশমিক ৬৩০ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ৫৫ হাজার। চাহিদার তুলনায় এ শহরে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। এ শহরের বিদ্যমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ১৯৭৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল, যা পর্যাপ্ত পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ শহরের পানির দৈনিক মোট চাহিদা ৬৬ লাখ লিটার। পৌরসভার মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয় মাত্র ১৪ লাখ লিটার। অর্থাৎ বাগেরহাট শহরে বর্তমানে নিরাপদ পানি চাহিদার মোট ২৫ শতাংশ পানি পাইপড নেটওয়ার্কের আওতায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই বাগেরহাট পৌরসভাকেও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ শহরে নিরাপদ পানি সরবরাহের কভারেজ হবে ৮০ শতাংশ।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, ২২ দশমিক ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ, ৫ লাখ ঘনমিটারের একটি জলাধার নির্মাণ, দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, পাঁচটি সিকিউরিটি ওয়ালসহ পাম্প হাউস নির্মাণ, তিনটি ওভারহেড ট্যাংক, ২ হাজার বাড়িতে পানি সংযোগ, বিভিন্ন ব্যাসের ১৩৮ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন, ১০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, ৩২ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ এবং একটি যানবাহন ক্রয়, জীপ ইত্যাদি।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং পরিবেশগত পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার আওতা বৃদ্ধি করে গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট পৌরসভার জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নত করা সম্ভব হবে তাই প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য।