রেলের আধুনিকায়নে ২০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার

রেলপথমন্ত্রী মজিবুল হক সংসদে জানিয়েছেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ২০ বছর মেয়াদী রেলওয়ের মহাপরিকল্পনার অনুমোদন করেছে সরকার। মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নতুন নতুন জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে। বর্তমানে মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করার কার্যক্রম চলমান আছে।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী আরও জানান, গৃহীত মহাপরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে করিডোর ডাবল লাইনে উন্নীতকরণ, পুরাতন ইঞ্জিন যাত্রীবাহী কোচের পরিবর্তে নতুন ও আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন ইঞ্জিন ও যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সেকশনে নতুন ট্রেন চালু করার একটি বড় বাধা হলো ডাবল লাইন না থাকা। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে সকল গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে করিডোর/সেকশনকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টিকেট ক্রয়ের জন্য ই-টিকেটিং সুবিধা চালু করা হয়েছে।

রেললাইনে বাঁশ ব্যবহার বিপজ্জনক নয় ॥ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী জানান, ব্রিজের মূল অবকাঠামোতে কখনই বাঁশ ব্যবহার হয় না। ট্রেন চলাচলের ফলে কোন কোন স্লিপার আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়া রোধকল্পে স্থানীয়ভাবে রেল কর্মচারীরা হয়ত বাঁশ ব্যবহার করে থাকতে পারেন। যা কোনভাবেই বিপজ্জনক নয়।

সরকারী দলের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবহৃত ভূমির পরিমাণ ১০ হাজার ৬৯৩ একর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রেল উন্নয়ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উক্ত অব্যবহৃত ভূমিসমূহে পিপিপির আওতায় আধুনিক হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ, আন্তর্জাতিকমানের পাঁচ তারকা হোটেল-কাম-বাণিজ্যিক ভবন, মোটেল, বহুতল বিশিষ্ট শপিং মল-কাম-গেস্ট হাউস ইত্যাদি নির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে রেলওয়েতে মোট ৪৫৯টি স্টেশন রয়েছে। লোকবলের অভাবে বর্তমানে ১৩৮টি স্টেশনের কার্যক্রম বিভিন্ন সময় থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, রেলওয়েতে দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় এবং ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে রেলওয়ের বহু কর্মকর্তা/কর্মচারীদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসর প্রদান করায় জনবলের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া বিএনপি সরকারের আমলে রেলওয়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরির শূন্য পদে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়নি।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে সহকারী স্টেশন মাস্টার পদে মোট ২৬৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তন্মেধ্যে ১৩৯ জনকে প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন স্টেশনে পদায়ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১২৮ জনের প্রশিক্ষণ শেষে স্টেশনের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের পদায়ন করে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।