পল্লীর ২ লাখ ১৭ হাজার অনগ্রসর নারী প্রশিক্ষণের আওতায় আসছেন

প্রশিক্ষণের আওতায় আসছেন পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র ও অনগ্রসর নারীরা। এর অংশ হিসেবে সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ২১টি আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ ট্রেড। এসব ট্রেডে মোট ২ লাখ ১৭ হাজার ৪৪০ নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। নারীদের প্রশিক্ষণে এ বড় উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২৫০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এ বিষয়ে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য একনেক বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাঠানো উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ শীর্ষক প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন পেলে বাস্তবায়ন কাজ শুরু করবে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণের কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, নারীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা ও নারীদের আন্তঃনির্ভরশীল করতে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে। তাছাড়া প্রশিক্ষণের আওতায় আসা নারীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের সুবিধা দেয়া ও অনগ্রসর নারীদের তাদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন করতে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর।
প্রকল্পের আওতায় ৮ বিভাগীয় শহরের ১ হাজার ৪৪০ নারীকে গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ৬৪ জেলা শহরের ১১ হাজার ৫২০ নারীকে বৈদ্যুতিক যন্ত্র যথাÑ টিভি, রেফ্রিজারেটর, এসি, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এছাড়াও সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৪৮০ নারীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে যেসব বিষয়ে নারীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারবে তার মধ্যে রয়েছেÑ কেঁচো সার তৈরি, বিউটিফিকেশন, ক্রিস্টাল শোপিস তৈরি, শতরঞ্জী তৈরি, প্যাকেট তৈরি, মোমবাতি তৈরি, ফ্যাশন ডিজাইন, ট্যুরিস্ট গাইড, মাশরুম ও মৌ-চাষ, উলের পোশাক তৈরি, সেলসম্যানশিপ, মোবাইল সার্ভিসিং ও মেরামত এবং ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজমেন্ট।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। মহিলা বিষয়ক অধিদফতর ৬৪ জেলা অফিস থেকে তৃণমূল পর্যায়ের অগ্রসর শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এসব নারীর জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে জেলা পর্যায়ে। তবে বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে নারীদের জন্য কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। ফলে উপজেলা পর্যায়ে বিরাট সংখ্যক গরিব নারী বিভিন্ন প্রকার দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পটির ওপর মতামত দিতে গিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ২ লাখের বেশি দরিদ্র, অনগ্রসর নারী বিভিন্ন আয়বর্ধক ট্রেডে প্রশিক্ষণ পাবে। এতে কর্মসংস্থান ও আন্তঃকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পটির নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মনির্ভরশীল ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ১ লাখ ১৫ হাজার ২০ জন নারীকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যে প্রকল্পটি আগস্টে একনেক সভায় উত্থাপন করা হয়। তবে প্রকল্পের আওতায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও গাড়ি চালনাসহ আধুনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয় একনেক সভায়। ফলে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। ওই সময় প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০৬ কোটি টাকা। পরে প্রকল্প প্রস্তবনা পুনর্গঠন করে নতুন একনেক নির্দেশিত বিষয়গুলো প্রকল্প প্রস্তবনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে নতুন পুনর্গঠিত ব্যয় বেড়ে ২৫০ কোটি টাকা হয়েছে।