ঢেলে সাজানো হচ্ছে সাক্ষরতা কার্যক্রম

বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন; আর নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা আড়াই কোটি। পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ১০-১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের সাক্ষরতার হার ৮২ দশমিক ১৭ শতাংশ, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ৭৫ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন। দেশের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে স্বাক্ষরজ্ঞান দিতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে সাক্ষরতা কার্যক্রম। পড়তে, লিখতে, গণনা করতে শেখানোর পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাদানের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক বাসুদেব গাঙ্গুলী মানবকণ্ঠকে বলেন, আগে অনেকেই স্বাক্ষর জ্ঞানের মাধ্যমে নিজের নাম কিংবা ঠিকানা লিখতে পারত। এ কার্যক্রম আরো প্রসারিত করা হচ্ছে। সাক্ষরতার মাধ্যমে পড়তে, লিখতে, গণনা করতে পারবে এমনভাবে শিক্ষাদান করা হবে। তিনি বলেন, শুধু লিখতে, পড়তে পারলেই হবে না। এর সঙ্গে যাতে করে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া যায় সেই ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত সচিব বাসুদেব গাঙ্গুলী আরো বলেন, ৬৪ জেলায় সাক্ষরতা কার্যক্রম বাড়াতে কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
জানা গেছে, সারাদেশে গ্রাম পর্যায়ে সাক্ষরতার শিক্ষণ কেন্দ্র করা হবে। এ নিয়ে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৫০টি উপজেলায় মৌলিক সাক্ষরতা কার্যক্রম চলবে। উপজেলাগুলোতে প্রায় ৭০ হাজার লার্নিং সেন্টার করা হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিটি জেলায় যেসব উপজেলায় সাক্ষরতার হার কম, সেসব উপজেলাগুলো এর আওতায় আনা হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় ৩শ’ লার্নিং সেন্টার করা হবে। প্রতিটি লার্নিং সেন্টারে ১৫-৪৫ বছর বয়সী নিরক্ষর পুরুষ ও মহিলাদের স্বাক্ষর করা হবে। সেন্টারে ৩০ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষকে লিখতে, পড়তে ও গণনা করতে শেখানো হবে।