রেশমে ব্র্যান্ডিং হচ্ছে রাজশাহী

রেশমের জন্য রাজশাহী জেলা ব্র্যান্ডিং হচ্ছে। বিষয়টি মন্ত্রিসভায় বৈঠকে চূড়ান্ত হলেই ঐতিহ্যবাহী রেশম হতে যাচ্ছে রাজশাহীর ব্র্যান্ডিং। তখন রাজশাহীর অপর নাম হবে ‘সিল্কি রাজশাহী’। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ব্র্যান্ডিংবিষয়ক প্রস্তুতি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জানা যায়, দেশের প্রতিটি জেলার কোনো না কোনো বিশেষত্ব রয়েছে। কোনো জেলা পর্যটনের জন্য, কোনো জেলা কোনো পণ্যের জন্য, আবার কোনো জেলা কোনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যে বিখ্যাত। জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য বিবেচনায় রেখে জেলার স্বাতন্ত্র্যকে বিকশিত করার জন্য জেলা ব্র্যান্ডিং করছে সরকার। তাই রেশমের জন্য ব্র্যান্ডিং হচ্ছে রাজশাহী।
রাজশাহীর ব্র্যান্ডিং নির্ধারণ করতে ওই সভায় রাজশাহীর প্রশাসন ও সুধীজনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক। কিন্তু তিনি রাষ্ট্রীয় অন্য একটি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় ভিডিও কনফারেন্সটি শেষ পর্যন্ত হয়নি। তবে কনফারেন্সে উপস্থিত স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা জেলা ব্র্যান্ডিংবিষয়ক প্রস্তুতি সভাটি সেরে নেন। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, রেশম হবে রাজশাহীর ব্র্যান্ডিং। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আবারও ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হলে রাজশাহীর এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়া হবে।
সভার শুরুতেই জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন সবার সামনে জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে রাজশাহীর জন্য এগিয়ে আছে আম ও রেশম। কিন্তু আমকে জেলা ব্র্যান্ডিং করতে হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যেতে হবে। রাজশাহীর আরেকটি ঐতিহ্য হলো রেশম। এছাড়া আর কী কী আছে তা নিয়ে সবার মতামত জানতে চান জেলা প্রশাসক। বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, এক সময় রাজশাহীর রেশম সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল। এখন তাতে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। এই রাজশাহীতেই এখনও বছরে ৬ বার রেশমের উৎপাদন সম্ভব। রেশমকে জেলা ব্র্যান্ডিং করলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এর হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে। তার কথায় একমত পোষণ করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার রেনী বলেন, আম, লিচু, টমেটোসহ আরও অনেক কিছু রাজশাহীতে আছে ব্র্যান্ডিং করার মতো। কিন্তু রেশমের মতো ঐতিহ্য কারও নেই। তাই রেশমকেই জেলা ব্র্যান্ডিং করার ব্যাপারে নিজের মতামত দেন তিনি। রাজশাহীর স্থানীয় দৈনিক সোনার দেশের সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাতও একমত পোষণ করে বলেন, রাজশাহীতে দেশের একমাত্র রেশম বোর্ড রয়েছে। এখানে রেশম নিয়ে গবেষণা হয়। আছে পর্যাপ্ত অবকাঠামো। রেশমকে জেলা ব্র্যান্ডিং করা হলে এ খাতে সরকার সুনজর দিতে বাধ্য হবে। তখন হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন বলেন, পাঁচ হাজার বছর ধরে এই সিল্ক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সমাদৃত হয়ে আসছে। চীন, ভারত ছাড়াও থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বর্তমানে সিল্কের জন্য বিখ্যাত। ভারত উপমহাদেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক যোগাযোগ শুরু হয় চতুর্দশ শতাব্দীর পরে সিল্ক রোডের মাধ্যমে, যা মধ্য চীন থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। এসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে যায়। রেশম রাজশাহীর ব্র্যান্ডিং হলে রেশমের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে। রেশমের মাধ্যমেই বিশ্বের কাছে নতুন করে আবার পরিচিত হয়ে উঠবে রাজশাহী জেলা। প্রস্তুতি সভায় রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ৯ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতা ও নারী সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভা শেষে রাজশাহীর নতুন একটি লোগো উন্মোচন করা হয়। লোগোটিতে রাজশাহী জেলার মানচিত্রের ওপর রেশম পোকার জীবনচক্রের ছবি দেয়া আছে। আর নিচে ইংরেজিতে লেখাÑ সিল্কি রাজশাহী। সিল্কি শব্দের বানানে ইংরেজি আই অক্ষরের স্থানে একটি রেশম গাছ জুড়ে দেয়া হয়েছে। সেটিই ইংরেজি আই অক্ষর হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে লোগোটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।