মেহেরপুরে পা দিয়ে লিখে স্বপ্ন জয়ের পথে পাপিয়া

জেলায় শারীরিক প্রতিবন্ধী পাপিয়া জীবনের সাথে যুদ্ধ করে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়। তাই সে ছোট থেকে স্বপ্ন বড় হয়ে শিক্ষক হবে। দুই হাত অকেজো হওয়ায় পা দিয়ে লিখে সেই স্বপ্ন জয়ের পথে আজকের পাপিয়া আক্তার ববি। এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দিচ্ছে পাপিয়া আক্তার ববি নামে এক শিক্ষার্থী।

জেলায় সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা চালিয়ে হার না মানা এই শিক্ষার্থী এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। চলতি এসএসসির পরীক্ষার প্রথম দিন এই অদম্য শিক্ষার্থীর পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা ও চর্চা শক্তি দেখতে মেহেরপুর শহরের সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে ভিড় জমিয়েছিলেন অনেকেই। পরীক্ষায় পাপিয়ার পা দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে লেখা দেখে বিস্মিত সকলেই। সরেজমিনে সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের মাঝে পা দিয়ে পরীক্ষার খাতায় মনোযোগ দিয়ে লিখছেন পাপিয়া। অন্য পরীক্ষার্থীরাও তার এই মনোবল দেখে অবাক হয়েছেন।

সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব অজিত কুমার রায় জানান, পাপিয়াকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া বোর্ড নির্ধারিত প্রতিবন্ধীদের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সেগুলো তাকে দেওয়া হচ্ছে। পাপিয়ার বাবা পিয়ারুল ইসলাম জানান, জন্মের পর দুই বছর বয়সে পাপিয়া দুই হাতের শক্তি হারিয়ে ফেলে। এখন পা দিয়েই সে সব কাজ করে।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ সাংবাদিকদের জানান, পাপিয়া যতদিন তার পড়ালেখা চালিয়ে যাবে ততদিন জেলা প্রশাসন তাকে সহযোগিতা করবে। পাপিয়া আক্তার ববি পরীক্ষা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি। আমার মত শারীরিক প্রতিবন্ধী যারা আছে তাদের নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করতে চাই।