জলাবদ্ধতা দূর হবে ২০ হাজার একর কৃষি জমির

গাববাড়িয়ার ক্লোজার নির্মাণে কলাপাড়ার ১৫ হাজার কৃষক পরিবারের ফসলি জমিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কেটে যাচ্ছে। এ ক্লোজারটি নির্মাণ করায় সোনাতলা নদীর সঙ্গে তিনটি শাখা নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে কৃষকরা দুটি বছর চরম ভোগান্তিতে পড়ে। ক্লোজারটির ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধের ভেতরের খালের অন্তত ১৯টি সøুইসের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এসব কৃষকের মরণদশার এ দুর্ভোগ কেটে যাচ্ছে। পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড দুটি শাখা নদী খননের লক্ষ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। কৃষকের দাবির প্রেক্ষিতে তেগাছিয়া-চরপাড়া-ডালবুগঞ্জ ভারানি এবং কাটা ভারানির শাখা নদী দুটি খননের এমন উদ্যোগ নিয়েছে পাউবো।

ফলে ডালবুগঞ্জ, ধুলাসার, মিঠাগঞ্জ, মহিপুর ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের ১৫ হাজার কৃষক পরিবারের অন্তত ২০ হাজার একর কৃষিজমি আবাদে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কেটে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, গাববাড়িয়ার সঙ্গে শাখা নদী কাটা ভারানির এক হাজার ৬শ’ ৫০ মিটার এবং তেগাছিয়া-চরপাড়ার শাখা নদীর সাড়ে তিন কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। এজন্য ৬১ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দ রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লু-গোল্ড প্রকল্পের আওতায় খননকাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। অন্তত দশ ফুট প্রস্থ এবং তলদেশ তিন থেকে চার ফুট গভীর করে খনন করা হচ্ছে।

সোনাতলা নদী থেকে ওঠা সংযোগ নদীর গাববাড়িয়া পয়েন্টে দুই বছর আগে এ ক্লোজারটি করা হয়। ফলে সোনাতলা নদীর সঙ্গে সাপুড়িয়া থেকে ডালবুগঞ্জ দিয়ে শিববাড়িয়া চ্যানেলের সঙ্গে সংযোগ ও শাখা নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় একই নদীর তেগাছিয়া বাজার থেকে ডালবুগঞ্জ হয়ে শিববাড়িয়া সংযোগ ও শাখা নদী এবং পেয়ারপুর হয়ে শিববাড়িয়া সংযোগ ও শাখা নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ।

ওই ক্লোজার মরণফাঁদে পরিণত হয়। আজিমদ্দিন গ্রামের কৃষক নেছার মোল্লা জানান, এ দুটি শাখা নদী খনন করলে জলাবদ্ধতা অনেকটা কমে যাবে, তবে সাপুড়িয়ার শাখা নদীও খনন করা প্রয়োজন। নিজ শিববাড়িয়া গ্রামের ইউনুচ গাজী জানান, ক্লোজারটির আশপাশে পাঁচটি ইউনিয়নের অন্তত ৩২টি গ্রামের কৃষকের আমন চাষাবাদের যে সমস্যা ছিল তা কমবে।