বুক না কেটে ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে হার্টের অপারেশন

বাংলাদেশে পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে হৃদরোগীদের জন্য সহজ ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারি’। বর্তমানে প্রচলিত ‘কনভেনশনাল হার্ট সার্জারি’ পদ্ধতিতে বুকের মাঝখান বরাবর কেটে হার্টের অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু মিনিমাল ইনভেসিভ পদ্ধতিতে বুক না কেটে ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে হার্টের অস্ত্রোপচার করা হয়। গত ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে মোট পাঁচজন হৃদরোগীর সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু করার জন্য পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এ পদ্ধতিতে চিকিৎসায় কম ব্যথা, সময় ও ব্যয় সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি আতঙ্ক ও ঝুঁকিমুক্ত থাকবে রোগী।

সোমবার রাজধানীর বারডেম অডিটরিয়ামে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারি’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানান। এতে সহযোগিতা করেছে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ডা. আব্দুল মালিক প্রধান অতিথি ও অধ্যাপক ডা. এম এইচ মিল্লাত এমপি বিশেষ অতিথি ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল হসপিটালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. থিওডোরাস কফিডিস। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারি সিম্পোজিয়ামের মেম্বার সেক্রেটারি ডা. ফাইজুস সাজ্জাদ, অধ্যাপক ডা. এম এ রাশেদ, অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ প্রমুখ।

অধ্যাপক ডা. থিওডোরাস কফিডিস বলেন, বিশ্বের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন পদ্ধতির বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য সন্দেহ থাকলেও পরবর্তীতে তা কার্যকর ও সর্বময় গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। এর মানে চিকিৎসা সেক্টরে নতুন ও পুরাতন পদ্ধতির মধ্যে সাংঘর্ষিক কোন বিষয় নয়। বরং নতুন ও পুরাতন পদ্ধতি মিলে আরও আধুনিক ও টেকশই চিকিৎসা পদ্ধতি গড়ে ওঠে। মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারি পদ্ধতির বিষয়েও এ কথাটি প্রযোজ্য। বর্তমানে হৃদরোগীদের কাছে কনভেনশনাল হার্ট সার্জারি পদ্ধতি বেশি পরিচিত। মিনিমাল ইনভেনসিভ সার্জারি পদ্ধতি এমন অবস্থায় কনভেনশনাল পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে চালু হয়েছে। অধ্যাপক ডা. থিওডোরাস কফিডিস আরও বলেন, আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশে এ পদ্ধতি ইতোমধ্যে সফলতা লাভ করেছে। এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মিনিমাল ইনভেসিভ পদ্ধতিতে বুক না কেটে ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে হার্টের অস্ত্রোপচার করা হয়। এ পদ্ধতিতে চিকিৎসায় কম ব্যথা, সময় ও ব্যয় সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি আতঙ্ক ও ঝুঁকিমুক্ত থাকবে রোগী। অস্ত্রোপচারের পরদিনই রোগী হাসপাতাল থেকে বিদায় নিতে পারেন। সব মিলিয়ে এটি একটি আধুনিক ও ঝুঁকিমুক্ত পদ্ধতি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ডা. আব্দুল মালিক বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও নতুন নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হচ্ছে। দেশে হৃদরোগের চিকিৎসার মানের অনেক উন্নতি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের কয়েকটি হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে সফলতার হারই বেশি।

ডা. ফাইজুস সাজ্জাদ বলেন, গত ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে মোট পাঁচজন হৃদরোগীর সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে এ পদ্ধেিত চিকিৎসা শুরু করার জন্য পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনেও এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। মেডিক্যাল উপকরণ ও অবকাঠামো সাজানোর কাজটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, আগামী দু’দিন (মঙ্গল ও বুধবার) রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে পাঁচজন রোগীর ইনভেসিভ মিনিমাল সার্জারি হবে।

Views: 86