আড়াইহাজারের সবজি যাচ্ছে ৫০টি দেশে

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে উৎপাদিত সবজি প্রায় ৫০টি দেশে রফতানি করা হচ্ছে। স্বল্প ও উচ্চশিক্ষিত শতাধিক যুবক সবজি চাষে জড়িত রয়েছেন। তারা চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন, যা গেল বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। জানা গেছে, সবজি রফতানি হচ্ছে সৌদি আরব, দুবাই, কাতার, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আবুধাবিসহ প্রায় ৫০টি দেশে। জমিতে পোকামাকড় দমনে ব্যবহার হচ্ছে কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব বালাই (উদ্ভিদ থেকে তৈরি কীটনাশক), আলোর ফাঁদ ও সেক্সফিউরোমন ফাঁদ। এতে অটুট থাকছে সবজির গুণগতমান। উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে এ বছর সবজি চাষ করা হয়েছে। সবজি চাষে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির পাশপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে চাষিদের সার্বক্ষণিক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন উপসহাকারী কৃষি অফিসার আকলিমাসহ অন্য কৃষি কর্মকর্তারা।
নগরজোয়ার এলাকার চাষি শাহ আলম বলেন, ২০১৩ সালে বেকারত্বের অভিশাপে আমাকে যেন কুরে কুরে খাচ্ছিল। স্থানীয় কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করি। দীর্ঘদিন চাকরির পেছনে ঘুরেছি। বাবার একার আয়ে সংসার চলতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছিল। বন্ধ হয়ে যায় ছোট ভাই-বোনের লেখাপড়া। এ সময় স্থানীয় একটি এনওজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৫০ শতাংশ পতিত জমি বন্ধক নিয়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ করি। সে বছরই লাভের মুখ দেখতে পাই। পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বছর ঘুরতেই আর ৬০ শতাংশ জমি বন্ধক নিয়ে শিম, গাজর, শালগুম ও মুলার চাষ করি। জমিতে পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করছি কীটনাশকের পরিবর্তে জৈববালাই (উদ্ভিদ থেকে তৈরি কীটনাশক), আলোর ফাঁদ ও সেক্সফিউরোমন ফাঁদ। এতে উৎপাদ হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি। অটুট থাকছে সবজির গুণগতমান। শাহ আলম জানান, চলতি বছরে এ পর্যন্ত সবজি বিক্রি করে তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করেছেন। তার জমিতে তিনজন শ্রমিক প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা বেতনে কাজ করছেন। রাজধানীর শ্যামবাজারের তিনজন সবজি ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে সবজি কিনে বিদেশ রফতানি করছেন। শিলপান্দি এলাকার চাষি নাইম জানান, ২০১৪ স্থানীয় এক শিক্ষকের পরামর্শে কৃষি কাজের চিন্তাভাবনা করি। একটি এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পতিত জমিতে লাউ ও মিষ্টিকুমড়ার চাষ করি। সে বছর প্রায় ১ লাখ টাকার মতো আয় হয়। পরে আরও ৯০ শতাংশ জমি বন্ধক নিয়ে বাঁধাকপি, ফুলকপি, গাজর ও লালশাকের চাষ করা হয়। চলতি বছর এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা আয় হয়েছে। লিটন ও শাহ আলমের মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে সবজি চাষ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত শিক্ষিত বেকার যুবক স্বাবলম্বী হয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবদুল কাদির বলেন, প্রায় ৫০টি দেশে সবজি রফতানি করা হচ্ছে।