সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ: বাংলাদেশের অবস্থার উন্নতি

সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ: বাংলাদেশের অবস্থার উন্নতিশাহ্জাহান সাজু: মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ইতোমধ্যে মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদন করেছে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি)। এই ইতিবাচক ফলাফল দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, ব্যয় হ্রাস, বৈদেশিক বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং বিভাগের পক্ষ থেকে সারসংক্ষেপ তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসে অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করায় এপিজির বার্ষিক সভায় ওই প্রতিবেদনটি অনুমোদন করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম এপিজির ৪১টি সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক আন্তর্জাতিক মানের হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। রেটিং অনুসারে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন রিভিউ গ্রুপ (আইসিআরজি) প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়েছে। সংস্থাটি এর আগে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
পর্যালোচনা করে খসড়া তৈরি করে। সেখানে বলা হয়েছে, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) ৪০ সুপারিশের কারিগরি কমপ্লায়েন্টের বিপরীতে ৬টি সুপারিশে বাংলাদেশকে কমপ্লায়েন্ট ‘সি’, ২০টি সুপারিশে লার্জলি কমপ্লায়েন্ট এবং ১৪টি সুপারিশে পারশিয়ালি কমপ্লায়েন্ট রেটিং প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কার্যকারিতা মূল্যায়নে ১১টি ইমিডিয়েট আউটকামের (আইও) মধ্যে বাংলাদেশকে ১টি আইওতে সাবস্ট্যানশিয়াল, ৬ আইওতে মডারেট এবং ৪টি আইওতে ‘লো’ লেভেল রেটিং প্রদান করা হয়েছিল। মডারেট রেটিংয়ে পাওয়া ৬টি ইমিডিয়েট আউটকামের মধ্যে কমপক্ষে ২টি ইমিডিয়েট আউটকামের রেটিং সাবস্ট্যানশিয়াল পর্যায়ে উন্নীত না হলে বাংলাদেশ পুনরায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেখানে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আরও ৩টি ইমিডিয়েট আউটকামে সাবস্ট্যানশিয়াল, ৪টি ইমিডিয়েট আউটকামে মডারেট এবং ৪টিতে ‘লো’ লেভেলের রেটিং প্রাপ্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কমপ্লায়েন্সে বাংলাদেশের রেটিং উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমকক্ষ বা তারচেয়েও ভালো। অন্যদিকে ইফেক্টিভনেসে বাংলাদেশের রেটিং শ্রীলঙ্কা, ভুটান, ফিজি ও নরওয়ের চেয়েও ভালো অবস্থানে উন্নীত হয়েছে।
মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমে বাংলাদেশের এরূপ ইতিবাচক ফলাফল দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, ব্যয় হ্রাস, বৈদেশিক বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশ একটি মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মান পরিপালনকারী দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।
প্রসঙ্গত, এপিজি হচ্ছে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (মানি লন্ডারিং) ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থার (এফএটিএফ) আঞ্চলিক সংস্থা। এর কাজ হচ্ছে বিভিন্ন দেশে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনি দুর্বলতা ও ঝুঁকি মোকাবেলায় বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া। পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবায়নেও সহায়তা করা। ১৯৮৯ সালে এফএটিএফ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সংস্থাটি মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কাজ করে আসছে।