উন্নয়নের চালিকা শক্তি এখন তথ্য প্রযুক্তি

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, তথ্য প্রযুক্তি খাত বর্তমান সময়ের উন্নয়নের চালিকাশক্তি। বেসিস ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তথ্য প্রযুক্তিতে নতুন পরিবেশ তৈরি করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছে। তাদের এই যাত্রায় রয়েছে অনেক ত্যাগ। সফটওয়্যারকে আরো জনপ্রিয় করার জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বেসিস। সফটওয়্যার খাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে এই খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে।

গতকাল রাজধানীতে দেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রদর্শনী বেসিস সফটএক্সপো উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘ফিউচার ইন মোশন’ স্লোগান নিয়ে আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এগারোতম এ মেলার আয়োজন করেছে তথ্য প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আরো বলেন, আইসিটি বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সফটওয়্যার খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সফটওয়্যার ও টেকনোলজি প্রত্যেকের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখন সময় এসেছে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সঙ্গে সফটওয়্যার খাতকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বেসিস সফটএক্সপোর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনারা আমাদের কাছে পরিকল্পনা নিয়ে আসেন আমরা অর্থাত্ সরকার তা বাস্তবে পরিণত করে দিবে। বিশ্ব জুড়ে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হলো আইসিটির মার্কেট সাইজ। এই খাতে সম্ভাবনা অনেক। সরকারের বিভিন্ন সফলতায় সফটওয়্যার-এর ভূমিকা রয়েছে। এখানে থেমে থাকলে চলবে না, আমাদের আরও অগ্রসর হবে। সারা দেশের জমির কাগজপত্র ও মামলার কাগজপত্র যদি ডিজিটালাইজড করা হয় তা হলে সকলেই উপকৃত হবেন। আমরা কোটি কোটি টাকার বই প্রিন্ট করছি। আগামীতে আমাদের অনেক পরিকল্পনা আছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে অনেক জ্ঞান রাখেন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এ নিয়ে কাজ করছেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকার নিজে ব্যবসা করে না কিন্তু অন্যদের ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। বেসিসকে সঙ্গে নিয়ে সফটওয়্যার খাতে ২০১৮ সাল নাগাদ ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে এখাতে ১ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আইসিটি শিল্প গড়ে তোলার কাজ চলছে। আইসিটি খাতে সবচেয়ে বড় প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই খাতে ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। সফট এক্সপোর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। আগামীতে তারাই এখাতে নেতৃত্ব দেবে।

বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেসিসের পরিচালক ও প্লাটিনাম স্পন্সর মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির এবং বেসিসের পরিচালক ও বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭ এর আহ্বায়ক সৈয়দ আলমাস কবীর।

বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ১৯৯৭ সালে বেসিস যাত্রা শুরু করে। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বেসিস এখন তথ্য প্রযুক্তিতে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে সফটওয়্যার খাতে রপ্তানি আয় ১৫৪ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু বেসিস সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুসারে এখাতে আয় ৫৯৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানি আয় যোগ করলে রপ্তানি আয় ৭০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এই হিসেবের পার্থক্যের কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সি-ফর্ম। এই ফর্মে যারা ৯ হাজার ৯৯৯ ডলার পর্যন্তও উপার্জন করে তাদের তালিকাভুক্ত করা হয় না। এছাড়াও সফটওয়্যার সেবা খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে যা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে যুক্ত হয় না। পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার উপার্জন আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার উপার্জন সমান। এতে মেধার শ্রম রয়েছে। একদিন সর্বোচ্চ রপ্তানি খাত হবে আইসিটি।

বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭ এর আহবায়ক সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, দেশের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণে এই সফটওয়্যার এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে। এতে ১৪১ টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনী এলাকাকে চারটিভাগে ভাগ করা হয়েছে। এতে ৪০ টির বেশি সেমিনারে দেশ-বিদেশের তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। দেশের সফটওয়্যারের নিজস্ব চাহিদা পূরণে সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্যেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন।

মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, পৃথিবীর সর্ববৃহত্ সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশেও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে দেশীয় সফটওয়্যার সম্প্রসারণের সহযোগী হয়েছে। মাইক্রোসফট এই প্রদর্শনীতে শিশুদের কোডিং শেখানোর জন্য একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে। এতে ৪০০ শিক্ষার্থীকে কোডিংয়ের প্রাথমিক জ্ঞান দেওয়া হবে। লোকাল ইকো সিস্টেম তৈরিতে কাজ করছে মাইক্রোসফট।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসিস জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান, ফারহানা এ রহমান, বেসিসের পরিচালক উত্তম কুমার পাল, মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, রিয়াদ এস এ হোসেনসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাগণ।