মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী ঝিনাইদহের ফারজানা

মাশরুম চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন ঝিনাইদহের গৃহবধূ ফারজানা ববি। নিজে হয়েছেন স্বাবলম্বী, পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার। স্বল্প পুঁজিতে ও নামমাত্র শ্রমে ওই মাশরুম চাষে সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই এখন মাশরুম চাষে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়া গ্রামের আবদুল হাইয়ের দ্বিতীয় সন্তান ফারজানা ববি। ১৯৯৯ সালে এইচএসসি পাসের পরই তার বিয়ে হয়ে যায়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বামী আলী আজম মৃধার সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। স্বামী যা উপার্জন করতেন তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলত। স্বামীর আয়ের পাশাপাশি সংসার আরো একটু ভালো রাখতে তিনি টেইলারিং, টিউশনি করেছেন। ২০১২ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সাভার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বামীর সহযোগিতায় মাশরুম চাষ শুরু করেন। অল্প কদিনেই সফলতার মুখ দেখেন।

২০১৩ সালে ঝিনাইদহ কৃষি মেলায়, ২০১৪ সালে মহিলা অধিদপ্তর আয়োজিত মেলায় এবং ২০১৫ সালে ঢাকা কৃষি মেলায় অংশ নিয়ে পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ২০১৪ সালে ভিয়েতনামে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। যার মাধ্যমে মাশরুম চাষে আরো সফলতা অর্জন করা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার মাসিক আয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তার বাড়িতে কাজ করছেন ওই এলাকার ১০ জন বেকার মানুষ। বর্তমানে ফারজানা ববির মাশরুম খামারে ৫ হাজার প্যাকেট রয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে ৮০-১০০ কেজি মাশরুম। তার এ মাশরুম যাচ্ছে ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। লাভের টাকা দিয়ে জমি কিনে বাড়ি করেছেন। সেই টাকা দিয়ে নতুন করে শুরু করেছেন গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প।

ফারজানা ববির সাফল্যে ওই গ্রামে অনেকেই মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। ওই গ্রামেরই শারমিন আক্তার নামের এক গৃহবধূ ফারজানা ববির পরামর্শ নিয়ে মাশরুম চাষ শুরু করেন। তিনিও এখন স্বাবলম্বী।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, প্রযুক্তিগতভাবে মাশরুম উৎপাদনের জন্য ফারজানা ববিকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে তিনি প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাশরুম উৎপাদন করে সফলতা অর্জন করেছেন।