উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

আগামী বছরগুলোতে যেসব দেশে উচ্চ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে, সেগুলোর তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারস (পিডবি্লউসি)। এই বহুজাতিক নিরীক্ষা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ‘উইনিং ইন ম্যাচুরিং মার্কেট’ শীর্ষক ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। অবশ্য গত অর্থবছরেই বাংলাদেশের জিডিপি ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও ভারত সম্ভাবনাময় বাজার। এ দেশ দুটোয় আমেরিকার চেয়ে বেশি হারে প্রবৃদ্ধি হবে। ইউরোপ ও জাপানে আগামীতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে। আর ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পোল্যান্ড ও মিসরের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি হবে। ভারতের নোট বাতিল কাণ্ডে চলতি বছর প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমতে পারে। তবে আগামী পাঁচ বছর বিশ্ব প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এই জনবহুল দেশটি থেকে আসবে। ইরানের প্রবৃদ্ধিতেও বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটতে পারে। বিশেষ করে আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। ভারতে নীতি সংস্কারের কারণে বেসরকারি খাতের নতুন দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে, যে কারণে দেশটিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে বলে মনে করছে পিডবি্লউসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহার ও সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, লেনদেন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, বীমা খাতের কার্যক্রম বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। এতে বাংলাদেশের মানুষের

ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়ছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন দুটিই বৃদ্ধি করছে।

গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৭ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশ প্রাক্কলন করেছে সরকার। যদিও বিশ্বব্যাংক বলছে প্রবৃদ্ধি আগের অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, দ্রুত বিদ্যুৎ

সংযোগ প্রদান, ডুয়িং বিজনেস সহজ করতে আইএফসির সঙ্গে চুক্তি, ইকোনমিক জোন স্থাপন অন্যতম।