ছাগল পালনে ভাগ্যের চাকা ঘুরছে বিধবা রেজিয়া বেগমের

নিজের বয়স কত হয়েছে তাও সঠিক করে বলতে পারে না ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাসনা গ্রামের বিধবা রেজিয়া বেগম। স্বাধীনতার বছর খানেক আগে তার বিয়ে হয়েছিল। তখন বয়স ছিল প্রায় ১৫ বছর। বিয়ের দেড় বছরের মধ্যে তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তানও হয়। অস্বচ্ছল সাংসারে ছেলের বয়স যখন ৮মাস তখন তার স্বামী আলমাস অজ্ঞাত রোগে মৃত্যু বরণ করে। ওই সময় রেজিয়া বেগম যুবতি থাকলে ও ছেলে-মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বিবাহও বসেনি। স্বামীর রেখে যাওয়া একটু জমিতে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসারও চলতো না। তখন থেকেই পরের বাড়িতে কাজ করে দু’টি সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিত। অভাবের সংসারেই গত ২০বছর পূর্বে ৪/৫শত টাকা দিয়ে একটি মাদী ছাগল ক্রয় করে তা লালন-পালন শুরু করে। প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর বাচ্চা দিতে শুরু করে। বাচ্চা বড় করে প্রতিবছর বাজারে বিক্রি করার পরও গত ২বছর আগে ২টি পাঁঠাসহ ৩২টি ছাগল তার গৃহে থাকে। প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে হঠাৎ করে অজ্ঞাত রোগে ৩১টিই মারা যায়, থাকে মাত্র একটি মাদি-ছাগল। ছাগল মারা যাওয়ার পরে মনোবল ভেঙে পড়ে রেজিয়া বেগমের। গর্ভের সন্তান মেয়ের অন্যত্র বিবাহ হয়েছে আর ছেলে বিবাহ করে বউ নিয়ে অন্য একটি বাড়িতে থাকে। শেষ বয়সে রেজিয়া বেগম জীবন সংগ্রামে একাই টিকে থাকতে হচ্ছে। দুঃচিন্তায় পড়ে যায় রেজিয়া। তেমন মূলধনও নেই যে আবার ছাগল পালন শুরু করবে। ঠিক এসময় নিজ বাড়ির সামনেই কথা হয় সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিসিয়েটিভ(এসডিআই) নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এক কর্মীর সাথে। পরে রেজিয়া বেগম ওই কর্মীর পরামর্শে সংস্থার সদস্য হয়। তিনি আবার ছাগল পালন করতে চায় এমন আগ্রহের কথাও জানান। পরে ওই উন্নয়ন সংস্থার কর্মী রেজিয়া বেগমকে ছাগল পালনের ওপর উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ থেকে ২দিনের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। প্রশিক্ষণ শেষে পল্লী সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক সহযোগিতায় এসডিআইয়ের প্রাণি সম্পদ ইউনিটের আওতায় পাঁঠা পালন প্রদর্শনীর মাধ্যমে ২টি ব্ল্যাক বেঙ্গল পাঁঠা ক্রয় করে দেয়া হয়। পাশাপাশি পাঁঠা/ছাগল থাকার জন্য ঘরের ভেতর একটি মাচাও তৈরি করে দেয়া হয়েছে। ২বছরের মাথায় একটি থেকে বর্তমানে তার গৃহে রয়েছে বাচ্চাসহ ২০টি ছাগল-বেশির ভাগই মাদি। এসডিআইয়ের প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিয়মিত টিকা প্রদান ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। যাতে করে ছাগল/পাঁঠার অকাল মৃত্যু না হয়। বর্তমানে রেজিয়া বেগম পাঁঠা দিয়ে প্রজজন ব্যবসাও করছেন। এ থেকে সে প্রতিদিন গড়ে একশত টাকা আয় করছেন। একদিকে রেজিয়া ছাগল বিক্রি করে আয় করছে। অন্যদিকে দেশের মানুষের জন্য পুষ্টির চাহিদা পূরণেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। রেজিয়ার পরিকল্পনা আছে ভবিষ্যতে আরও চারটি পাঁঠা ক্রয় করে একটি বড় খামার করবে।