কোটি প্রবাসীর জন্য কল্যাণ বোর্ড গঠনে আইন হচ্ছে

কোটি প্রবাসীর জন্য কল্যাণ বোর্ড গঠনে আইন হচ্ছেরবিউল ইসলাম: দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি প্রায় এক কোটি প্রবাসীর আয়। আর এই প্রবাসীদের কল্যাণে একটি বোর্ড গঠনে আইন প্রণয়ন করছে সরকার। এতে প্রবাসে কোনো বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করলে সরকারি ব্যয়ে মরদেহ দেশে নিয়ে এসে বাড়িতে পৌঁছানো এবং শেষ আনুষ্ঠানিকতার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। মৃত্যুবরণকারীর পরিবার অসচ্ছল হলে অনুদানেরও ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে অসুস্থ, আহত ও শারীরিকভাবে অক্ষম প্রবাসীদের দেশে এনে চিকিত্সা সহায়তাও দেবে ওই কল্যাণ বোর্ড।
আইনের খসড়ায় নারী কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিদেশে নারী শ্রমিকদের জন্য সেইফ হোম প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে ফেরত নারী অভিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ এবং অর্থায়ন করবে বোর্ড।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মিশন ও কল্যাণ) মোহাম্মদ আজহারুল হক বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণ ও তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য সরকার প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড গঠন করছে। এজন্য আইন করা হচ্ছে। এই আইন হলে প্রবাসীদের অনেক জটিলতা কমবে। বিশেষ করে বিদেশে কোনো প্রবাসী মৃত্যুবরণ করলে তার মরদেহ দেশে ফেরত আনতে এখন নানা ধরনের জটিলতা দেখা যায়। কিন্তু আইনে সেই জটিলতা নিরসন করা হচ্ছে। সরকার প্রবাসীদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে বাসায় পৌঁছে দেবে। প্রবাসীদের জন্য সরকারের কাজের পরিধি বেড়েছে উল্লেখ করে আজহারুল হক বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে কাজের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এজন্য আইনটি খুবই কাজে দেবে। ইতোমধ্যেই আইনের খসড়া করা হয়েছে। এখন অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের আইনের খসড়া অনুযায়ী বিমানবন্দরে আগমন ও বিদেশে গমনে সহায়তা করার জন্য বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক স্থাপন করা হবে। বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের মাধ্যমে কার্যকরভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে বোর্ড। বিদেশে কোনো প্রবাসী মৃত্যুবরণ করলে বা পেশাগত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন, ইন্স্যুরেন্স ও সার্ভিস বেনিফিট আদায়ে সহায়তা দেওয়া হবে। প্রবাসীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি চালু করার কথা বলা হয়েছে আইনে। প্রবাসীদের আইনগত সহায়তা এবং দেশে ফেরত আসা অভিবাসীদের পুনর্বাসনে অর্থায়ন ও প্রকল্প গ্রহণ করবে বোর্ড।
নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, বিদেশে কোনো নারী অভিবাসী কর্মী কোনো অপরাধের শিকার হয়ে বা কোনো দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হলে বোর্ড তাদের উদ্ধার করে আইনগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ আদায় ও চিকিত্সা সহায়তা দেবে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড-২০১৭’র খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এই খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য গত ১১ জানুয়ারি সরকারের ৫৭টি মন্ত্রণালয়/অধিদফতর/সংস্থার প্রতিনিধি এবং অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। শিগগিরই খসড়াটি চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবার মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর এটি সংসদে পাসের জন্য পাঠানো হবে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে আইনটি দ্রুত করার কাজ চলছে।
২০০২ সালে প্রবাসীদের কল্যাণে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। সেই বিধিমালার আলোকে বর্তমানে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল পরিচালিত হচ্ছে। এই তহবিল বর্তমানে প্রবাসীদের টাকায় পরিচালনা হচ্ছে। বাংলাদেশের কোনো মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়ার সময় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কর্তৃক আদায়কৃত নিবন্ধন ফি, কল্যাণ ফি, ব্রিফিং ফি ও স্মার্ট কার্ড ফি কল্যাণ তহবিলের অন্যতম আয়। বোর্ড হওয়ার পর প্রতি বছর এই সংক্রান্ত বাজেট প্রণয়ন করা হবে। বোর্ড হওয়ার পর বিদ্যমান নয়টি খাত থেকেও অর্থ আসবে। বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে আইনের খসড়ায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চেয়ারপারসন করে ১৪ সদস্যের পরিচালনা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিচালনা পরিষদে তিনজন নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একজন মহাপরিচালক বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।