বিনিয়োগে মহাপরিকল্পনা : বাস্তবায়নে মাঠে নামবে বিডা

বিনিয়োগে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার। নতুন বছরে বিনিয়োগকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এ পরিকল্পনায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনা হচ্ছে। এর পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে সুপারিশ থাকছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শেষে চলতি মাসের ৩১ তারিখ চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এছাড়া আসছে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামবে বিডা।
রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে সরকার। এ জন্য কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বর্তমান সরকার। এ বিষয়গুলোকে নতুন বাজেটেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য মোট জিডিপির ২৩ শতাংশ বিনিয়োগ হতে হবে। সেই সঙ্গে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য চলতি ২০১৭ সালের মধ্যে বিনিয়োগের এ হার ২৪ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগনির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিকীতে ১৪টি বিষয়কে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর সমন্বয়ে একটি কর্মপরিল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করতে পারলে ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দুই অঙ্কে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাতিসংঘের ব্যবসা পরিবেশ সূচকে ১০০ দেশের তালিকায় আসতে এই মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ডুয়িং বিজনেস ২০১৭ প্রতিবেদনে ব্যবসা করার পরিবেশের দিক দিয়ে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৭৬ নম্বরে। নতুন ব্যবসা শুরু করা, অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি পাওয়া, বিদ্যুৎ সুবিধা, সম্পত্তির নিবন্ধন, ঋণ পাওয়ার সুযোগ, সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর পরিশোধ, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তি বাস্তবায়ন ও দেউলিয়া হওয়া ব্যবসার উন্নয়ন সহজীকরণ- এই মাপকাঠির ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ শেষে, অর্থাৎ ২০২০ সাল নাগাদ এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কী করে ১০০ এর নিচে নামিয়ে আনা যায়, সেই পরিকল্পনা সাজাতে চাচ্ছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যবসার ক্ষেত্রে নিয়মনীতি, প্রথা-পদ্ধতি, আইন-কানুন এসবের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১০০-এর নিচে নিয়ে আসবো। এটা জটিল কাজ হলেও করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।
সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বিডার উদ্যোগে ১৮টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রমে আরো গতি বাড়াতে কী করবে, সে সংক্রান্ত কর্মসূচি তারা দিয়েছে। এসব কর্মসূচি সমন্বয় করে প্রকাশ করা হবে। আসছে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামবে বিডা। এর আগে বেসরকারিকরণ কমিশন ও বিনিয়োগ বোর্ডকে একীভূত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হওয়ার পর গত ৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এর পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠক হয়। ব্যবসা পরিবেশের সূচকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ওই সভায় একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিনিয়োগের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন দপ্তর মন্ত্রণালয় কাজ শুরুর পর তার প্রভাব এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে পড়ছে। ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক জোন এবং অনেকগুলো হাইটেক পার্ক স্থাপন করার পরিকল্পনার এর মধ্যে অন্যতম।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওই রিপোর্টে ব্যবসার পরিবেশকে ১০টি বৃহত্তর নির্দেশিকা বা বিষয়ে বিন্যস্ত করে সেগুলোর অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। এ সূচকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯। এছাড়া অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তির বাস্তবায়ন, অসচ্ছলতা দূরীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। যে পাঁচটি সূচকে সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে সেগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে ব্যবসায় শুরু। এ সূচকে গতবার বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১১। ঋণের প্রাপ্যতা সূচকে ১২৮ থেকে পাঁচ ধাপ কমে ১৩৩ হয়েছে।
বিডার চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আর এজন্য বিডা গঠন করা হয়েছে। আর শিগগিরই তার সুফল পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, প্রতি বছর মে মাস পর্যন্ত সময়কাল হিসাব করে ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। আশা করি আগামী রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশে সহজে ব্যবসা করা যায়, সেটি ওই রিপোর্টে প্রতিফলিত হবে।
আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য। এই পথচলায় সরকার বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপগুলো পুরোপরি বাস্তবায়ন করতে চায়। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া ওয়ানস্টপ সার্ভিস কার্যকর করার ঘোষণা রয়েছে। বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে মেগা দশ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।
এদিকে, বিদায়ী বছরেই খরা কেটে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি-পরিবহনসহ ভৌত অবকাঠামো খাত উন্নয়নে চলমান উদ্যোগে বাড়ছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। পাশাপাশি ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ক্রমশ ত্বরান্বিত হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় দেশে পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। স্থবিরতা দূর হয়ে এখন বিনিয়োগে সুবাতাস বইছে। আর এ কারণে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে ১৮২ কোটি ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি। বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের হালনাগাদ তথ্য নিয়ে সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০১৬ প্রকাশ করে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা আঙ্কটাড। সংস্থাটির বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে করা বাংলাদেশের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বিনিয়োগ বোর্ড। জানা গেছে, বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ কাজে লাগাতে বিদেশি উদ্যোক্তারা ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমপুঞ্জীভূত মূলধন বাড়ানো। গত দশ বছরে মোট বিনিয়োগ বেড়ে জিডিপির ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হলেও ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির ২১ থেকে ২২ শতাংশের মধ্যে সীমিত রয়েছে। এদিকে, গত বছর সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, জাপান ও ভারত থেকে। এসব দেশ থেকে আবার সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম, টেক্সটাইল অ্যান্ড ওয়্যারিং, ব্যাংকিং, টেলিকমিউনিকেশন, বিদ্যুৎ, খাদ্য, সিমেন্ট, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ২০১৪ সালে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের গ্রস ফ্লো ছিল ২০৫ কোটি ৮৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর ডিজ-ইনভেস্টমেন্ট বাদ দিয়ে নিট প্রবাহের পরিমাণ ছিল ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। ২০১৫ সালে নিট প্রবাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২০ কোটি ডলার। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের নিট প্রবাহ বেড়েছে ৪৪ শতাংশের বেশি।
উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমপুঞ্জীভূত মূলধন বাড়ানো। গত দশ বছরে মোট বিনিয়োগ বেড়ে জিডিপির ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- রূপকল্পের স্বপ্ন হচ্ছে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়ন। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে মোটা দাগে সরকারের কৌশল হচ্ছে উপযুক্ত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নয়ন, গণদ্রব্য ও সেবার জোগান বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারের সঙ্গে ক্রমান্বয়ে একীভূত হওয়া, উৎপাদন বিশেষায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা। আর এগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিনিয়োগ ও বিনিয়োগের উৎকর্ষ বৃদ্ধি করা।
অন্যদিকে সরকারের বড় বড় বিনিয়োগ প্রকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা ব্যবহার হতে যাচ্ছে শিগগিরই। এরই মধ্যে রিজার্ভের অর্থ দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল গঠনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তহবিলের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক মতামতও চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঝুঁকি হলেও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতেই আগামী ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে ভোক্তাঋণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে শ্রমঘন খাত কুটির শিল্প ও এসএমইতে ঋণ বাড়ানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করা হবে। এ জন্য আগামী ছয় মাসের জন্য যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে তাতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, নতুন বছরে বিনিয়োগই বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ। দারিদ্র্য বিমোচন, প্রবৃদ্ধি, রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতিতে স্বস্তি থাকলেও ২০১৬ সালে বেসরকারি খাতে আশানুরূপ বিনিয়োগ টানতে পারেনি সরকার। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি বিনিয়োগ বাড়লে বেসরকারি খাতেও বিনিয়োগে গতি আসে। কিন্তু গত পাঁচ বছর সরকারি বিনিয়োগ ব্যাপক বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২২ শতাংশের ঘরেই আটকে আছে, বাড়ছে না বিদেশি বিনিয়োগও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগে বাধার কারণে অনেকে বিনিয়োগ প্রকল্প হাতে নিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে গেছেন। তার সঙ্গে রয়েছে অনুন্নত অবকাঠামো ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার। মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ২০১৬ সালে একটা ভালো বছর পার করেছি। আশা করছি, ২০১৭ সালও একইভাবে ভালো কাটবে। সেটা হলে আমাদের যে ধরনের পরিকল্পনা প্রস্তুতি আছে, তাতে আমরা এগিয়ে যাবো। আমার মনে হয়, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার জন্য আমরা যে সব হিসাব করেছি, সেটা পেরিয়ে আমরা অনেক দূর যেতে পারবো।