৮ হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা

বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে মাছের বর্জ্য রপ্তানি করে প্রতিবছর প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। অথচ দক্ষ জনবল ও কারিগরি সহায়তা এবং উদ্যোক্তার অভাবে বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারছে না বাংলাদেশ।

জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন মছের বর্জ্য উৎপাদন হলেও প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে মাত্র ২০ শতাংশ রপ্তানি করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশই নষ্ট করে ফেলা হয়। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। অথচ এসব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশ শ্রিম্প অ্যান্ড ফিশ ফাউন্ডেশন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মাছের চামড়া থেকে বেল্ট, জুতা,ব্যাগ ও ক্যাপসুলের খোলস, লিভার থেকে ওমেগা-৩ ক্যাপসুল, রাসায়নিক সেল থেকে ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরি করা সম্ভব। তবে এসব করার জন্য বাংলাদেশে এখনো যথেষ্ট দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি নেই। এ কারণে বর্তমানে মাছের ফুসফুস, আঁশ ও চিংড়ির খোলস রপ্তানি করা হলেও নাড়ি, ভুঁড়ি,পাখনা, ফুলকা, চামড়া ইত্যাদি ফেলে দেওয়া হয়। ২০০৪ সাল থেকে প্রক্রিয়াজাত করে এই খাতে একক আধিপত্য করছে ইউরোপের দেশ আইসল্যান্ড। দেশটি গড়ে ২ কেজি ওজনের মাছের বর্জ্য থেকে ৫০ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ হাজার টাকা আয় করে। ভারত, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডও মাছের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করছে। এসব দেশ মাছের চামড়া, চামড়া সংশ্লিষ্ট মাংস, হাড়, কাঁটা, আঁশ, ফুসফুস, লিভার, মাছের ডিম, নাড়ি-ভুঁড়িসহ প্রায় কয়েক ধরনের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে। কিন্তু বাংলাদেশে মাছের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার মতো দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি না থাকায় বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশের গৃহস্থালি এবং মাছের আড়ত কিংবা মাছ প্রক্রিয়াজাত করার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত বর্জ্য ফেলে দেওয়া হয়। শুধু মাছের ফুসফুস ও এর আঁশ রপ্তানি করা হয়। এ ছাড়া মাছের কাটা ও উচ্ছিষ্ট থেকে মাছ ও মুরগির খাবার তৈরি করা হয়।

মাছ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জানা যায়, একটি দুই কেজি ওজনের মাছ প্রক্রিয়াজাত ও আকৃতি প্রদান করার পর ওজন ৭০০ গ্রাম হয়। বাকি এক হাজার ৩০০ গ্রামই বর্জ্য হিসেবে নষ্ট করে ফেলা হয়। অথচ দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এসব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

এ ব্যাপারে মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান মৎস্য সম্প্রসারণ অফিসার কামরুজ্জামান হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে মৎস্য বর্জ্য প্রক্রিয়া এখনো তেমন বিকাশ লাভ করেনি। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার কারণে এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। আর সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব হওয়ায় রপ্তানির বাজার খুব সহজেই পাওয়া যাবে। বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত বিষয়ে এ পর্যন্ত ২৪ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। স্বল্প পুঁজি নিয়ে মাছের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। এই খাতে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইলে তাদের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিত্য রঞ্জন বিশ্বাস আমাদের সময়কে বলেন, মৎস্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু মূল মাছ রপ্তানি করছে। নতুন উদ্যোক্তারা প্রক্রিয়াজাত করা মাছের বর্জ্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। একটি মাছ প্রক্রিয়াজাত করার পর মূল ওজনের ৪০ শতাংশ মাংস পাওয়া যায়। আর বাকি ৬০ শতাংশ বর্জ্য। এই ৬০ শতাংশ বর্জ্যরে মধ্যে ১০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বাকি ৫০ শতাংশ যদি প্রক্রিয়াজাত করা হয় তাহলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি মূল মাছের দামও হ্রাস পাবে।